Curriculum
Course: Tafsir
Login

Curriculum

Tafsir

0/172

0/0
Text lesson

১১. হূদ | Hud | سورة هود

 بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

Image

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

১১:১ الٓرٰ ۟ كِتٰبٌ اُحۡكِمَتۡ اٰیٰتُهٗ ثُمَّ فُصِّلَتۡ مِنۡ لَّدُنۡ حَكِیۡمٍ خَبِیۡرٍ ۙ﴿۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আলিফ-লাম-রা। এটি কিতাব যার আয়াতসমূহ সুস্থিত করা হয়েছে, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সবিশেষ অবহিত সত্ত্বার পক্ষ থেকে।

১১:২ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ اِنَّنِیۡ لَكُمۡ مِّنۡهُ نَذِیۡرٌ وَّ بَشِیۡرٌ ۙ﴿۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

(এ মর্মে) যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।

১১:৩ وَّ اَنِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡهِ یُمَتِّعۡكُمۡ مَّتَاعًا حَسَنًا اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی وَّ یُؤۡتِ كُلَّ ذِیۡ فَضۡلٍ فَضۡلَهٗ ؕ وَ اِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡكُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ كَبِیۡرٍ ﴿۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তার কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দেবেন এবং প্রর্তেক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মুতাবিক দান করবেন। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে আমি নিশ্চয় তোমাদের উপর বড় এক দিনের আযাবের ভয় করছি।

১১:৪ اِلَی اللّٰهِ مَرۡجِعُكُمۡ ۚ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহর নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল।

১১:৫ اَلَاۤ اِنَّهُمۡ یَثۡنُوۡنَ صُدُوۡرَهُمۡ لِیَسۡتَخۡفُوۡا مِنۡهُ ؕ اَلَا حِیۡنَ یَسۡتَغۡشُوۡنَ ثِیَابَهُمۡ ۙ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَ مَا یُعۡلِنُوۡنَ ۚ اِنَّهٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের বুক ফিরিয়ে নেয়, যাতে তারা তার থেকে আত্মগোপন করতে পারে। জেনে রাখ, যখন তারা কাপড় আবৃত হয়, তখন তিনি জানেন যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে। নিশ্চয় তিনি অন্তর্যামী।

১১:৬ وَ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ رِزۡقُهَا وَ یَعۡلَمُ مُسۡتَقَرَّهَا وَ مُسۡتَوۡدَعَهَا ؕ كُلٌّ فِیۡ كِتٰبٍ مُّبِیۡنٍ ﴿۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যমীনে বিচরণকারী প্রতিটি প্রাণীর রিয্কের দায়িত্ব আল্লাহরই এবং তিনি জানেন তাদের আবাসস্থল ও সমাধিস্থল* । সব কিছু আছে স্পষ্ট কিতাবে**।

১১:৭ وَ هُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ وَّ كَانَ عَرۡشُهٗ عَلَی الۡمَآءِ لِیَبۡلُوَكُمۡ اَیُّكُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا ؕ وَ لَئِنۡ قُلۡتَ اِنَّكُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِ الۡمَوۡتِ لَیَقُوۡلَنَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তিনিই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, আর তাঁর আরশ ছিল পানির উপর, যাতে তিনি পরীক্ষা করেন, কে তোমাদের মধ্যে আমলে সর্বোত্তম। আর তুমি যদি বল, ‘মৃত্যুর পর নিশ্চয় তোমাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’, তবে কাফিররা অবশ্যই বলবে, ‘এতো শুধুই স্পষ্ট যাদু’।

১১:৮  وَ لَئِنۡ اَخَّرۡنَا عَنۡهُمُ الۡعَذَابَ اِلٰۤی اُمَّۃٍ مَّعۡدُوۡدَۃٍ لَّیَقُوۡلُنَّ مَا یَحۡبِسُهٗ ؕ اَلَا یَوۡمَ یَاۡتِیۡهِمۡ لَیۡسَ مَصۡرُوۡفًا عَنۡهُمۡ وَ حَاقَ بِهِمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যদি আমি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের থেকে আযাব বিলম্বিত করি, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘কোন্ বস্তু তাকে ঠেকিয়ে রাখল’? সাবধান ! যেদিন তাদের উপর তা নেমে আসবে, সেদিন তাদের থেকে তা ফেরানো হবে না এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তাদেরকে তা ঘিরে ফেলবে।

১১:৯  وَ لَئِنۡ اَذَقۡنَا الۡاِنۡسَانَ مِنَّا رَحۡمَۃً ثُمَّ نَزَعۡنٰهَا مِنۡهُ ۚ اِنَّهٗ لَیَـُٔوۡسٌ كَفُوۡرٌ ﴿۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই, অতঃপর তার থেকে তা কেড়ে নেই, নিশ্চয় সে তখন (হয়ে পড়বে) নিরাশ, অকৃতজ্ঞ।

১১:১০  وَ لَئِنۡ اَذَقۡنٰهُ نَعۡمَآءَ بَعۡدَ ضَرَّآءَ مَسَّتۡهُ لَیَقُوۡلَنَّ ذَهَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیۡ ؕ اِنَّهٗ لَفَرِحٌ فَخُوۡرٌ ﴿ۙ۱۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে নিআমত আস্বাদন করাই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘আমার থেকে বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেছে, আর সে হবে অতি উৎফুল্ল, অহঙ্কারী।

১১:১১  اِلَّا الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ؕ اُولٰٓئِكَ لَهُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّ اَجۡرٌ كَبِیۡرٌ ﴿۱۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তবে যারা সবর করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।

১১:১২ فَلَعَلَّكَ تَارِكٌۢ بَعۡضَ مَا یُوۡحٰۤی اِلَیۡكَ وَ ضَآئِقٌۢ بِهٖ صَدۡرُكَ اَنۡ یَّقُوۡلُوۡا لَوۡ لَاۤ اُنۡزِلَ عَلَیۡهِ كَنۡزٌ اَوۡ جَآءَ مَعَهٗ مَلَكٌ ؕ اِنَّمَاۤ اَنۡتَ نَذِیۡرٌ ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ وَّكِیۡلٌ ﴿ؕ۱۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তাহলে সম্ভবত তুমি তোমার উপর অবতীর্ণ ওহীর কিছু বিষয় ছেড়ে দেবে এবং তোমার বুক সঙ্কুচিত হবে এ কারণে যে, তারা বলে, ‘কেন তার উপর ধন-ভান্ডার অবতীর্ণ হয়নি, কিংবা তার সাথে ফেরেশতা আসেনি’? তুমি তো শুধু সতর্ককারী আর আল্লাহ সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।

১১:১৩ اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىهُ ؕ قُلۡ فَاۡتُوۡا بِعَشۡرِ سُوَرٍ مِّثۡلِهٖ مُفۡتَرَیٰتٍ وَّ ادۡعُوۡا مَنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۱۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রটনা করেছে’? বল, ‘তাহলে তোমরা এর অনুরূপ দশটি সূরা বানিয়ে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে আন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।

১১:১৪ فَاِلَّمۡ یَسۡتَجِیۡبُوۡا لَكُمۡ فَاعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَاۤ اُنۡزِلَ بِعِلۡمِ اللّٰهِ وَ اَنۡ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ فَهَلۡ اَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ ﴿۱۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর তারা যদি তোমাদের আহবানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, এটা আল্লাহর জ্ঞান অনুসারেই নাযিল করা হয়েছে এবং তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ্ নেই। অতঃপর তোমরা কি অনুগত হবে?

১১:১৫ مَنۡ كَانَ یُرِیۡدُ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا وَ زِیۡنَتَهَا نُوَفِّ اِلَیۡهِمۡ اَعۡمَالَهُمۡ فِیۡهَا وَ هُمۡ فِیۡهَا لَا یُبۡخَسُوۡنَ ﴿۱۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার জৌলুস কামনা করে, আমি সেখানে তাদেরকে তাদের আমলের ফল পুরোপুরি দিয়ে দেই এবং সেখানে তাদেরকে কম দেয়া হবে না।

১১:১৬ اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ لَیۡسَ لَهُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ اِلَّا النَّارُ ۫ۖ وَ حَبِطَ مَا صَنَعُوۡا فِیۡهَا وَ بٰطِلٌ مَّا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এরাই তারা, আখিরাতে যাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা সেখানে যা করে তা বরবাদ হয়ে যাবে আর তারা যা করত, তা সম্পূর্ণ বাতিল।

১১:১৭ اَفَمَنۡ كَانَ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّهٖ وَ یَتۡلُوۡهُ شَاهِدٌ مِّنۡهُ وَ مِنۡ قَبۡلِهٖ كِتٰبُ مُوۡسٰۤی اِمَامًا وَّ رَحۡمَۃً ؕ اُولٰٓئِكَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِهٖ ؕ وَ مَنۡ یَّكۡفُرۡ بِهٖ مِنَ الۡاَحۡزَابِ فَالنَّارُ مَوۡعِدُهٗ ۚ فَلَا تَكُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّنۡهُ ٭ اِنَّهُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّكَ وَ لٰكِنَّ اَكۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۱۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা তার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং অনুসরণ করে তাঁর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী* এবং যার পূর্বে রয়েছে মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ,(তারা কি ঐ লোকদের মত, যারা দুনিয়া ও তার জৌলুস কামনায় বিভোর?) এরাই তার প্রতি ঈমান পোষণ করে। আর যে সকল দল তা অস্বীকার করে, আগুনই হবে তাদের প্রতিশ্রুত স্থান। সুতরাং তুমি এতে মোটেও সন্দেহের মধ্যে থেকো না, নিশ্চয় তা তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত সত্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনে না।

১১:১৮ وَ مَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنِ افۡتَرٰی عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا ؕ اُولٰٓئِكَ یُعۡرَضُوۡنَ عَلٰی رَبِّهِمۡ وَ یَقُوۡلُ الۡاَشۡهَادُ هٰۤؤُلَآءِ الَّذِیۡنَ كَذَبُوۡا عَلٰی رَبِّهِمۡ ۚ اَلَا لَعۡنَۃُ اللّٰهِ عَلَی الظّٰلِمِیۡنَ ﴿ۙ۱۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রটনা করে, তাদের চেয়ে অধিক যালিম কে? তাদেরকে তাদের রবের সামনে উপস্থিত করা হবে এবং সাক্ষীগণ বলবে, ‘এরাই তাদের রবের ব্যাপারে মিথ্যারোপ করেছিল’। সাবধান, যালিমদের উপর আল্লাহর লা‘নত।

১১:১৯ الَّذِیۡنَ یَصُدُّوۡنَ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ یَبۡغُوۡنَهَا عِوَجًا ؕ وَ هُمۡ بِالۡاٰخِرَۃِ هُمۡ كٰفِرُوۡنَ ﴿۱۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয় এবং তাকে বক্র করতে চায়। আর এরাই তো আখিরাত অস্বীকারকারী।

১১:২০ اُولٰٓئِكَ لَمۡ یَكُوۡنُوۡا مُعۡجِزِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ وَ مَا كَانَ لَهُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ۘ یُضٰعَفُ لَهُمُ الۡعَذَابُ ؕ مَا كَانُوۡا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ السَّمۡعَ وَ مَا كَانُوۡا یُبۡصِرُوۡنَ ﴿۲۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা যমীনে (আল্লাহকে) অক্ষম করতে পারত না এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের কোন সাহায্যকারী ছিল না, তাদের জন্য আযাব দ্বিগুণ করা হবে। তারা শুনতে সক্ষম ছিল না এবং দেখতেও পেত না।

১১:২১اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ وَ ضَلَّ عَنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ﴿۲۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এরা তো নিজদেরই ক্ষতি করেছে, আর তারা যা রটিয়ে বেড়াত, তাদের থেকে তা হারিয়ে গেছে।

১১:২২لَا جَرَمَ اَنَّهُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ هُمُ الۡاَخۡسَرُوۡنَ ﴿۲۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিঃসন্দেহে তারাই আখিরাতে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত।

১১:২৩اِنَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ اَخۡبَتُوۡۤا اِلٰی رَبِّهِمۡ ۙ اُولٰٓئِكَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং বিনীত হয়েছে তাদের রবের প্রতি, তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।

১১:২৪ مَثَلُ الۡفَرِیۡقَیۡنِ كَالۡاَعۡمٰی وَ الۡاَصَمِّ وَ الۡبَصِیۡرِ وَ السَّمِیۡعِ ؕ هَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ ﴿۲۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

দল দু’টির উপমা হচ্ছে অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ও শ্রবণশক্তিসম্পন্নের মত, তুলনায় উভয় দল কি সমান? এরপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?

১১:২৫ وَ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا اِلٰی قَوۡمِهٖۤ ۫ اِنِّیۡ لَكُمۡ نَذِیۡرٌ مُّبِیۡنٌ ﴿ۙ۲۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর অবশ্যই আমি নূহকে প্রেরণ করেছিলাম তার কওমের কাছে (এই বার্তা দিয়ে) যে, ‘আমি তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী’।

১১:২৬  اَنۡ لَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡكُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ اَلِیۡمٍ ﴿۲۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘যেন তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের ভয় করছি’।

১১:২৭ فَقَالَ الۡمَلَاُ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ قَوۡمِهٖ مَا نَرٰىكَ اِلَّا بَشَرًا مِّثۡلَنَا وَ مَا نَرٰىكَ اتَّبَعَكَ اِلَّا الَّذِیۡنَ هُمۡ اَرَاذِلُنَا بَادِیَ الرَّاۡیِ ۚ وَ مَا نَرٰی لَكُمۡ عَلَیۡنَا مِنۡ فَضۡلٍۭ بَلۡ نَظُنُّكُمۡ كٰذِبِیۡنَ ﴿۲۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর তার কওমের নেতৃস্থানীয়রা, যারা কুফরী করেছিল, তারা বলল, ‘আমরা তো তোমাকে আমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু দেখছি না এবং আমরা দেখছি যে, কেবল আমাদের নীচু শ্রেণীর লোকেরাই বিবেচনাহীনভাবে তোমার অনুসরণ করেছে। আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করছি’।

১১:২৮ قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ كُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَ اٰتٰىنِیۡ رَحۡمَۃً مِّنۡ عِنۡدِهٖ فَعُمِّیَتۡ عَلَیۡكُمۡ ؕ اَنُلۡزِمُكُمُوۡهَا وَ اَنۡتُمۡ لَهَا كٰرِهُوۡنَ ﴿۲۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কি মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত হই এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দিয়ে থাকেন, আর তা তোমাদের কাছে গোপন রাখা হয়, তবে কি আমি তোমাদের উপর তোমাদের অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তা চাপিয়ে দেব’?

১১:২৯ وَ یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡئَلُكُمۡ عَلَیۡهِ مَالًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ وَ مَاۤ اَنَا بِطَارِدِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ اِنَّهُمۡ مُّلٰقُوۡا رَبِّهِمۡ وَ لٰكِنِّیۡۤ اَرٰىكُمۡ قَوۡمًا تَجۡهَلُوۡنَ ﴿۲۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর হে আমার কওম, এর বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন সম্পদ চাই না। আমার প্রতিদান শুধু আল্লাহর কাছে। যারা ঈমান এনেছে, আমি তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। কিন্তু আমি তো দেখছি তোমরা এক অজ্ঞ জাতি’।

১১:৩০  وَ یٰقَوۡمِ مَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰهِ اِنۡ طَرَدۡتُّهُمۡ ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ ﴿۳۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘হে আমার কওম, যদি আমি তাদেরকে তাড়িয়ে দেই, তবে আল্লাহর আযাব থেকে কে আমাকে সাহায্য করবে? এরপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না’?

১১:৩১  وَ لَاۤ اَقُوۡلُ لَكُمۡ عِنۡدِیۡ خَزَآئِنُ اللّٰهِ وَ لَاۤ اَعۡلَمُ الۡغَیۡبَ وَ لَاۤ اَقُوۡلُ اِنِّیۡ مَلَكٌ وَّ لَاۤ اَقُوۡلُ لِلَّذِیۡنَ تَزۡدَرِیۡۤ اَعۡیُنُكُمۡ لَنۡ یُّؤۡتِیَهُمُ اللّٰهُ خَیۡرًا ؕ اَللّٰهُ اَعۡلَمُ بِمَا فِیۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ ۚۖ اِنِّیۡۤ اِذًا لَّمِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۳۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর আমি তোমাদের বলছি না যে, ‘আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডারসমূহ আছে’ এবং না আমি গায়েব জানি আর আমি এও বলছি না যে, ‘আমি ফেরেশতা’। তোমাদের চোখে যারা হীন, তাদের সম্পর্কে আমি বলছি না যে, ‘আল্লাহ তাদেরকে কখনো কোন কল্যাণ দান করবেন না’। তাদের অন্তরে যা আছে, সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত। (যদি এরূপ উক্তি করি) তাহলে নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব’।

১১:৩২   قَالُوۡا یٰنُوۡحُ قَدۡ جٰدَلۡتَنَا فَاَكۡثَرۡتَ جِدَالَنَا فَاۡتِنَا بِمَا تَعِدُنَاۤ اِنۡ كُنۡتَ مِنَ الصّٰدِقِیۡنَ ﴿۳۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি আমাদের সাথে বাদানুবাদ করছ এবং আমাদের সাথে অতিমাত্রায় বিবাদ করেছ। অতএব যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাদেরকে দিচ্ছ, তা আমাদের কাছে নিয়ে আস, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও’।

১১:৩৩ قَالَ اِنَّمَا یَاۡتِیۡكُمۡ بِهِ اللّٰهُ اِنۡ شَآءَ وَ مَاۤ اَنۡتُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ﴿۳۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘আল্লাহই তো তোমাদের কাছে তা হাজির করবেন, যদি তিনি চান। আর তোমরা তাকে অক্ষম করতে পারবে না’।

১১:৩৪ وَ لَا یَنۡفَعُكُمۡ نُصۡحِیۡۤ اِنۡ اَرَدۡتُّ اَنۡ اَنۡصَحَ لَكُمۡ اِنۡ كَانَ اللّٰهُ یُرِیۡدُ اَنۡ یُّغۡوِیَكُمۡ ؕ هُوَ رَبُّكُمۡ ۟ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿ؕ۳۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোন উপকারে আসবে না, যদি আল্লাহ তোমাদের বিভ্রান্ত করতে চান। তিনি তোমাদের রব এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে’।

১১:৩৫  اَمۡ یَقُوۡلُوۡنَ افۡتَرٰىهُ ؕ قُلۡ اِنِ افۡتَرَیۡتُهٗ فَعَلَیَّ اِجۡرَامِیۡ وَ اَنَا بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُجۡرِمُوۡنَ ﴿۳۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নাকি তারা বলে, ‘সে এটা রচনা করেছে’। বল, ‘যদি আমি তা রচনা করে থাকি, তবে আমার অপরাধ আমার উপরই বর্তাবে এবং তোমরা যে অপরাধ করছ, আমি তা থেকে মুক্ত’।

১১:৩৬ وَ اُوۡحِیَ اِلٰی نُوۡحٍ اَنَّهٗ لَنۡ یُّؤۡمِنَ مِنۡ قَوۡمِكَ اِلَّا مَنۡ قَدۡ اٰمَنَ فَلَا تَبۡتَئِسۡ بِمَا كَانُوۡا یَفۡعَلُوۡنَ ﴿ۚۖ۳۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর নূহের কাছে ওহী পাঠানো হল যে, ‘যারা ঈমান এনেছে, তারা ছাড়া তোমার কওমের আর কেউ ঈমান আনবে না। সুতরাং তারা যা করে সে জন্য তুমি দুঃখিত হয়ো না’।

১১:৩৭  وَ اصۡنَعِ الۡفُلۡكَ بِاَعۡیُنِنَا وَ وَحۡیِنَا وَ لَا تُخَاطِبۡنِیۡ فِی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا ۚ اِنَّهُمۡ مُّغۡرَقُوۡنَ ﴿۳۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুসারে নৌকা তৈরী কর। আর যারা যুলম করেছে, তাদের ব্যাপারে তুমি আমার কাছে কোন আবেদন করো না। নিশ্চয় তাদেরকে ডুবানো হবে’।

১১:৩৮ وَ یَصۡنَعُ الۡفُلۡكَ ۟ وَ كُلَّمَا مَرَّ عَلَیۡهِ مَلَاٌ مِّنۡ قَوۡمِهٖ سَخِرُوۡا مِنۡهُ ؕ قَالَ اِنۡ تَسۡخَرُوۡا مِنَّا فَاِنَّا نَسۡخَرُ مِنۡكُمۡ كَمَا تَسۡخَرُوۡنَ ﴿ؕ۳۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর সে নৌকা তৈরী করতে লাগল এবং যখনই তার কওমের নেতৃস্থানীয় কোন ব্যক্তি তার পাশ দিয়ে যেত, তাকে নিয়ে উপহাস করত। সে বলল, ‘যদি তোমরা আমাদের নিয়ে উপহাস কর, তবে আমরাও তোমাদের নিয়ে উপহাস করব, যেমন তোমরা উপহাস করছ’।

১১:৩৯ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡهِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡهِ وَ یَحِلُّ عَلَیۡهِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ ﴿۳۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতএব, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর সে আযাব আসবে যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কার উপর আপতিত হবে স্থায়ী আযাব।

১১:৪০ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَ اَمۡرُنَا وَ فَارَ التَّنُّوۡرُ ۙ قُلۡنَا احۡمِلۡ فِیۡهَا مِنۡ كُلٍّ زَوۡجَیۡنِ اثۡنَیۡنِ وَ اَهۡلَكَ اِلَّا مَنۡ سَبَقَ عَلَیۡهِ الۡقَوۡلُ وَ مَنۡ اٰمَنَ ؕ وَ مَاۤ اٰمَنَ مَعَهٗۤ اِلَّا قَلِیۡلٌ ﴿۴۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অবশেষে যখন আমার আদেশ আসল এবং চুলা উথলে উঠল*, আমি বললাম, ‘তুমি তাতে তুলে নাও প্রত্যেক শ্রেণী থেকে জোড়া জোড়া** এবং যাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে তাদের ছাড়া তোমার পরিবারকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে। আর তার সাথে অল্পসংখ্যকই ঈমান এনেছিল।

১১:৪১  وَ قَالَ ارۡكَبُوۡا فِیۡهَا بِسۡمِ اللّٰهِ مَ‍‍جۡؔرٖىهَا وَ مُرۡسٰىهَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۴۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর সে বলল, ‘তোমরা এতে আরোহণ কর। এর চলা ও থামা হবে আল্লাহর নামে। নিশ্চয় আমার রব অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

১১:৪২  وَ هِیَ تَجۡرِیۡ بِهِمۡ فِیۡ مَوۡجٍ كَالۡجِبَالِ ۟ وَ نَادٰی نُوۡحُۨ ابۡنَهٗ وَ كَانَ فِیۡ مَعۡزِلٍ یّٰـبُنَیَّ ارۡكَبۡ مَّعَنَا وَ لَا تَكُنۡ مَّعَ الۡكٰفِرِیۡنَ ﴿۴۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তা পাহাড়সম ঢেউয়ের মধ্যে তাদেরকে নিয়ে চলছিল এবং নূহ তার পুত্রকে ডাক দিল, আর সে ছিল আলাদা স্থানে- ‘হে আমার পুত্র, আমাদের সাথে আরোহণ কর এবং কাফিরদের সাথে থেকো না’।

১১:৪৩   قَالَ سَاٰوِیۡۤ اِلٰی جَبَلٍ یَّعۡصِمُنِیۡ مِنَ الۡمَآءِ ؕ قَالَ لَا عَاصِمَ الۡیَوۡمَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰهِ اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ ۚ وَ حَالَ بَیۡنَهُمَا الۡمَوۡجُ فَكَانَ مِنَ الۡمُغۡرَقِیۡنَ ﴿۴۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘অচিরেই আমি একটি পাহাড়ে আশ্রয় নেব, যা আমাকে পানি থেকে রক্ষা করবে’। সে (নূহ) বলল, ‘যার প্রতি আল্লাহ দয়া করেছেন সে ছাড়া আজ আল্লাহর আদেশ থেকে কোন রক্ষাকারী নেই’। এরপর তাদের উভয়ের মধ্যে ঢেউ অন্তরায় হয়ে গেল। অতঃপর সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল ।

১১:৪৪  وَ قِیۡلَ یٰۤاَرۡضُ ابۡلَعِیۡ مَآءَكِ وَ یٰسَمَآءُ اَقۡلِعِیۡ وَ غِیۡضَ الۡمَآءُ وَ قُضِیَ الۡاَمۡرُ وَ اسۡتَوَتۡ عَلَی الۡجُوۡدِیِّ وَ قِیۡلَ بُعۡدًا لِّلۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۴۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর বলা হল, ‘হে যমীন, তুমি তোমার পানি চুষে নাও, আর হে আসমান, বিরত হও’। অতঃপর পানি কমে গেল এবং (আল্লাহর) সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হল, আর নৌকা জুদী পর্বতের উপর উঠল এবং ঘোষণা করা হল, ‘ধ্বংস যালিম কওমের জন্য’।

১১:৪৫  وَ نَادٰی نُوۡحٌ رَّبَّهٗ فَقَالَ رَبِّ اِنَّ ابۡنِیۡ مِنۡ اَهۡلِیۡ وَ اِنَّ وَعۡدَكَ الۡحَقُّ وَ اَنۡتَ اَحۡكَمُ الۡحٰكِمِیۡنَ ﴿۴۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর নূহ তার রবকে ডাকল এবং বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমার সন্তান আমার পরিবারভুক্ত এবং আপনার ওয়াদা নিশ্চয় সত্য। আর আপনি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক’।

১১:৪৬  قَالَ یٰنُوۡحُ اِنَّهٗ لَیۡسَ مِنۡ اَهۡلِكَ ۚ اِنَّهٗ عَمَلٌ غَیۡرُ صَالِحٍ ٭۫ۖ فَلَا تَسۡـَٔلۡنِ مَا لَـیۡسَ لَكَ بِهٖ عِلۡمٌ ؕ اِنِّیۡۤ اَعِظُكَ اَنۡ تَكُوۡنَ مِنَ الۡجٰهِلِیۡنَ ﴿۴۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনি বললেন, ‘হে নূহ, সে নিশ্চয় তোমার পরিবারভুক্ত নয়। সে অবশ্যই অসৎ কর্মপরায়ণ। সুতরাং যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, আমার কাছে তা চেয়ো না। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, যেন মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত না হও’।

১১:৪৭ قَالَ رَبِّ اِنِّیۡۤ اَعُوۡذُ بِكَ اَنۡ اَسۡـَٔلَكَ مَا لَـیۡسَ لِیۡ بِهٖ عِلۡمٌ ؕ وَ اِلَّا تَغۡفِرۡ لِیۡ وَ تَرۡحَمۡنِیۡۤ اَكُنۡ مِّنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ﴿۴۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হে আমার রব, যে বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই তা চাওয়া থেকে আমি অবশ্যই আপনার আশ্রয় চাই। আর যদি আপনি আমাকে মাফ না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’।

১১:৪৮  قِیۡلَ یٰنُوۡحُ اهۡبِطۡ بِسَلٰمٍ مِّنَّا وَ بَرَكٰتٍ عَلَیۡكَ وَ عَلٰۤی اُمَمٍ مِّمَّنۡ مَّعَكَ ؕ وَ اُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمۡ ثُمَّ یَمَسُّهُمۡ مِّنَّا عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۴۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

বলা হল, ‘হে নূহ, তোমার ও তোমার সাথে যে উম্মত রয়েছে তাদের উপর আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর। আর আরো অনেক উম্মতকে আমি জীবন উপভোগ করতে দেব, তারপর আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে স্পর্শ করবে যন্ত্রণাদায়ক আযাব’।

১১:৪৯  تِلۡكَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡغَیۡبِ نُوۡحِیۡهَاۤ اِلَیۡكَ ۚ مَا كُنۡتَ تَعۡلَمُهَاۤ اَنۡتَ وَ لَا قَوۡمُكَ مِنۡ قَبۡلِ هٰذَا ؕۛ فَاصۡبِرۡ ؕۛ اِنَّ الۡعَاقِبَۃَ لِلۡمُتَّقِیۡنَ ﴿۴۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এগুলো গায়েবের সংবাদ, আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে তা জানাচ্ছি। ইতঃপূর্বে তা না তুমি জানতে এবং না তোমার কওম। সুতরাং তুমি সবর কর। নিশ্চয় শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্য।

১১:৫০  وَ اِلٰی عَادٍ اَخَاهُمۡ هُوۡدًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَیۡرُهٗ ؕ اِنۡ اَنۡتُمۡ اِلَّا مُفۡتَرُوۡنَ ﴿۵۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আদ জাতির কাছে (প্রেরণ করেছিলাম) তাদের ভাই হূদকে। সে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তোমরা তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী’।

১১:৫১  یٰقَوۡمِ لَاۤ اَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَیۡهِ اَجۡرًا ؕ اِنۡ اَجۡرِیَ اِلَّا عَلَی الَّذِیۡ فَطَرَنِیۡ ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ ﴿۵۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘হে আমার কওম, আমি তোমাদের কাছে এর বিনিময়ে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল তাঁরই কাছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এরপরও কি তোমরা বুঝবে না’?

১১:৫২ وَ یٰقَوۡمِ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡهِ یُرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡكُمۡ مِّدۡرَارًا وَّ یَزِدۡكُمۡ قُوَّۃً اِلٰی قُوَّتِكُمۡ وَ لَا تَتَوَلَّوۡا مُجۡرِمِیۡنَ ﴿۵۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও অতঃপর তার কাছে তাওবা কর, তাহলে তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি পাঠাবেন এবং তোমাদের শক্তির সাথে আরো শক্তি বৃদ্ধি করবেন। আর তোমরা অপরাধী হয়ে বিমুখ হয়ো না’।

১১:৫৩   قَالُوۡا یٰهُوۡدُ مَا جِئۡتَنَا بِبَیِّنَۃٍ وَّ مَا نَحۡنُ بِتَارِكِیۡۤ اٰلِهَتِنَا عَنۡ قَوۡلِكَ وَ مَا نَحۡنُ لَكَ بِمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۵۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে হূদ, তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই’।

১১:৫৪  اِنۡ نَّقُوۡلُ اِلَّا اعۡتَرٰىكَ بَعۡضُ اٰلِهَتِنَا بِسُوۡٓءٍ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اُشۡهِدُ اللّٰهَ وَ اشۡهَدُوۡۤا اَنِّیۡ بَرِیۡٓءٌ مِّمَّا تُشۡرِكُوۡنَ ﴿ۙ۵۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আমরা তো কেবল বলছি যে, ‘আমাদের কোন কোন উপাস্য তোমাকে অমঙ্গল দ্বারা আক্রান্ত করেছে’। সে বলল, ‘নিশ্চয় আমি আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমি অবশ্যই তা থেকে মুক্ত যাকে তোমরা শরীক কর,

১১:৫৫  مِنۡ دُوۡنِهٖ فَكِیۡدُوۡنِیۡ جَمِیۡعًا ثُمَّ لَا تُنۡظِرُوۡنِ ﴿۵۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং তোমরা সকলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর তারপর আমাকে অবকাশ দিও না’।

১১:৫৬   اِنِّیۡ تَوَكَّلۡتُ عَلَی اللّٰهِ رَبِّیۡ وَ رَبِّكُمۡ ؕ مَا مِنۡ دَآبَّۃٍ اِلَّا هُوَ اٰخِذٌۢ بِنَاصِیَتِهَا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۵۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আমি অবশ্যই তাওয়াক্কুল করেছি আমার রব ও তোমাদের রব আল্লাহর উপর, প্রতিটি বিচরণশীল প্রাণীরই তিনি নিয়ন্ত্রণকারী। নিশ্চয় আমার রব সরল পথে আছেন’।

১১:৫৭  فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَقَدۡ اَبۡلَغۡتُكُمۡ مَّاۤ اُرۡسِلۡتُ بِهٖۤ اِلَیۡكُمۡ ؕ وَ یَسۡتَخۡلِفُ رَبِّیۡ قَوۡمًا غَیۡرَكُمۡ ۚ وَ لَا تَضُرُّوۡنَهٗ شَیۡئًا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ حَفِیۡظٌ ﴿۵۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে যা নিয়ে আমি তোমাদের কাছে প্রেরিত হয়েছি তা তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর আমার রব তোমাদেরকে ছাড়া অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আর তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আমার রব সব কিছুর হেফাযতকারী’।

১১:৫৮  وَ لَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا هُوۡدًا وَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا ۚ وَ نَجَّیۡنٰهُمۡ مِّنۡ عَذَابٍ غَلِیۡظٍ ﴿۵۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন আমার আদেশ আসল, আমি হূদকে ও যারা তার সাথে ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা রক্ষা করলাম এবং আমি কঠোর আযাব থেকে তাদেরকে নাজাত দিলাম।

১১:৫৯  وَ تِلۡكَ عَادٌ ۟ۙ جَحَدُوۡا بِاٰیٰتِ رَبِّهِمۡ وَ عَصَوۡا رُسُلَهٗ وَ اتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِیۡدٍ ﴿۵۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এই আদ জাতি, তারা তাদের রবের আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিল এবং অমান্য করেছিল তাঁর রাসূলদের, আর তারা অনুসরণ করেছিল প্রত্যেক উদ্ধত, হঠকারীর নির্দেশ।

১১:৬০  وَ اُتۡبِعُوۡا فِیۡ هٰذِهِ الدُّنۡیَا لَعۡنَۃً وَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ عَادًا كَفَرُوۡا رَبَّهُمۡ ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّعَادٍ قَوۡمِ هُوۡدٍ ﴿۶۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর এই দুনিয়াতে লা‘নত তাদের পেছনে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিয়ামত দিবসেও। জেনে রাখ, নিশ্চয় আদ জাতি তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে। জেনে রাখ, হূদের কওম আদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস।

১১:৬১  وَ اِلٰی ثَمُوۡدَ اَخَاهُمۡ صٰلِحًا ۘ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَیۡرُهٗ ؕ هُوَ اَنۡشَاَكُمۡ مِّنَ الۡاَرۡضِ وَ اسۡتَعۡمَرَكُمۡ فِیۡهَا فَاسۡتَغۡفِرُوۡهُ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡهِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ قَرِیۡبٌ مُّجِیۡبٌ ﴿۶۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর সামূদ জাতির প্রতি (পাঠিয়েছিলাম)তাদের ভাই সালিহকে। সে বলল,‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই, তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আবাদের* ব্যবস্থা করেছেন । সুতরাং তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয়ই আমার রব নিকটে, সাড়াদানকারী’।

১১:৬২  قَالُوۡا یٰصٰلِحُ قَدۡ كُنۡتَ فِیۡنَا مَرۡجُوًّا قَبۡلَ هٰذَاۤ اَتَنۡهٰنَاۤ اَنۡ نَّعۡبُدَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَا وَ اِنَّنَا لَفِیۡ شَكٍّ مِّمَّا تَدۡعُوۡنَاۤ اِلَیۡهِ مُرِیۡبٍ ﴿۶۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি তো ইতঃপূর্বে আমাদের মধ্যে ছিলে প্রত্যাশিত। তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করছ তাদের ইবাদাত করতে আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদাত করত? তুমি আমাদেরকে যার দিকে আহবান করছ, সে ব্যাপারে নিশ্চয় আমরা ঘোর সন্দেহের মধ্যে আছি’।

১১:৬৩ قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ كُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَ اٰتٰىنِیۡ مِنۡهُ رَحۡمَۃً فَمَنۡ یَّنۡصُرُنِیۡ مِنَ اللّٰهِ اِنۡ عَصَیۡتُهٗ ۟ فَمَا تَزِیۡدُوۡنَنِیۡ غَیۡرَ تَخۡسِیۡرٍ ﴿۶۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, যদি আমি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে রহমত দান করেন, তাহলে কে আমাকে আল্লাহর (আযাব) থেকে সাহায্য করবে, যদি আমি তাঁর অবাধ্য হই? সুতরাং তোমরা তো কেবল আমার ক্ষতিই বৃদ্ধি করছ’।

১১:৬৪  وَ یٰقَوۡمِ هٰذِهٖ نَاقَۃُ اللّٰهِ لَكُمۡ اٰیَۃً فَذَرُوۡهَا تَاۡكُلۡ فِیۡۤ اَرۡضِ اللّٰهِ وَ لَا تَمَسُّوۡهَا بِسُوۡٓءٍ فَیَاۡخُذَكُمۡ عَذَابٌ قَرِیۡبٌ ﴿۶۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর হে আমার কওম, এটি আল্লাহর উট, তোমাদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ। তাই তোমরা একে ছেড়ে দাও, সে আল্লাহর যমীনে (বিচরণ করে) খাবে এবং কোনরূপ মন্দভাবে তাকে স্পর্শ করো না, তাহলে তোমাদেরকে আশু আযাব পাকড়াও করবে’।

১১:৬৫ فَعَقَرُوۡهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوۡا فِیۡ دَارِكُمۡ ثَلٰثَۃَ اَیَّامٍ ؕ ذٰلِكَ وَعۡدٌ غَیۡرُ مَكۡذُوۡبٍ ﴿۶۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর তারা তাকে হত্যা করল। তাই সে বলল, ‘তোমরা তিন দিন নিজ নিজ গৃহে আনন্দে কাটাও। এ এমন এক ওয়াদা, যা মিথ্যা হবার নয়’।

১১:৬৬ فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا صٰلِحًا وَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَ مِنۡ خِزۡیِ یَوۡمِئِذٍ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ الۡقَوِیُّ الۡعَزِیۡزُ ﴿۶۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর যখন আমার আদেশ এল, তখন সালিহ ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং (নাজাত দিলাম) সেই দিনের লাঞ্ছনা থেকে। নিশ্চয় তোমার রব, তিনি শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।

১১:৬৭ وَ اَخَذَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِهِمۡ جٰثِمِیۡنَ ﴿ۙ۶۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা যুলম করেছিল, বিকট আওয়াজ তাদেরকে পাকড়াও করল, ফলে তারা নিজদের গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।

১১:৬৮ كَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡهَا ؕ اَلَاۤ اِنَّ ثَمُوۡدَا۠ كَفَرُوۡا رَبَّهُمۡ ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّثَمُوۡدَ ﴿۶۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যেন তারা সেগুলোতে বসবাসই করেনি। জেনে রাখ, নিশ্চয় সামূদ জাতি তাদের রবের সাথে কুফরী করেছে। জেনে রাখ, সামূদ জাতির জন্য রয়েছে ধ্বংস।

১১:৬৯ وَ لَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰهِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی قَالُوۡا سَلٰمًا ؕ قَالَ سَلٰمٌ فَمَا لَبِثَ اَنۡ جَآءَ بِعِجۡلٍ حَنِیۡذٍ ﴿۶۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর অবশ্যই আমার ফেরেশতারা সুসংবাদ নিয়ে ইবরাহীমের কাছে আসল, তারা বলল, ‘সালাম’। সেও বলল, ‘সালাম’। বিলম্ব না করে সে একটি ভুনা গো বাছুর নিয়ে আসল।

১১:৭০ فَلَمَّا رَاٰۤ اَیۡدِیَهُمۡ لَا تَصِلُ اِلَیۡهِ نَكِرَهُمۡ وَ اَوۡجَسَ مِنۡهُمۡ خِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡا لَا تَخَفۡ اِنَّاۤ اُرۡسِلۡنَاۤ اِلٰی قَوۡمِ لُوۡطٍ ﴿ؕ۷۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর যখন সে দেখতে পেল, তাদের হাত এর প্রতি পৌঁছছে না, তখন তাদেরকে অস্বাভাবিক মনে করল এবং সে তাদের থেকে ভীতি অনুভব করল। তারা বলল, ‘ভয় করো না, নিশ্চয় আমরা লূতের কওমের কাছে প্রেরিত হয়েছি’।

১১:৭১ وَ امۡرَاَتُهٗ قَآئِمَۃٌ فَضَحِكَتۡ فَبَشَّرۡنٰهَا بِاِسۡحٰقَ ۙ وَ مِنۡ وَّرَآءِ اِسۡحٰقَ یَعۡقُوۡبَ ﴿۷۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তার স্ত্রী দাঁড়ানো ছিল, সে হেসে উঠল। অতঃপর আমি তাকে সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের ও ইসহাকের পরে ইয়া‘কূবের।

১১:৭২ قَالَتۡ یٰوَیۡلَتٰۤیءَ اَلِدُ وَ اَنَا عَجُوۡزٌ وَّ هٰذَا بَعۡلِیۡ شَیۡخًا ؕ اِنَّ هٰذَا لَشَیۡءٌ عَجِیۡبٌ ﴿۷۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হায়, কী আশ্চর্য! আমি সন্তান প্রসব করব, অথচ আমি বৃদ্ধা, আর এ আমার স্বামী, বৃদ্ধ? এটা তো অবশ্যই এক আশ্চর্যজনক ব্যাপার’!

১১:৭৩ قَالُوۡۤا اَتَعۡجَبِیۡنَ مِنۡ اَمۡرِ اللّٰهِ رَحۡمَتُ اللّٰهِ وَ بَرَكٰتُهٗ عَلَیۡكُمۡ اَهۡلَ الۡبَیۡتِ ؕ اِنَّهٗ حَمِیۡدٌ مَّجِیۡدٌ ﴿۷۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘আল্লাহর সিদ্ধান্তে তুমি আশ্চর্য হচ্ছ? হে নবী পরিবার, তোমাদের উপর আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত। নিশ্চয় তিনি প্রশংসিত সম্মানিত’।

১১:৭৪ فَلَمَّا ذَهَبَ عَنۡ اِبۡرٰهِیۡمَ الرَّوۡعُ وَ جَآءَتۡهُ الۡبُشۡرٰی یُجَادِلُنَا فِیۡ قَوۡمِ لُوۡطٍ ﴿ؕ۷۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর যখন ইবরাহীম থেকে ভয় দূর হল এবং তার কাছে সুসংবাদ এল, তখন সে লূতের কওম সম্পর্কে আমার সাথে বাদানুবাদ করতে লাগল।

১১:৭৫ اِنَّ اِبۡرٰهِیۡمَ لَحَلِیۡمٌ اَوَّاهٌ مُّنِیۡبٌ ﴿۷۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় ইবরাহীম অত্যন্ত সহনশীল, অধিক অনুনয় বিনয়কারী, আল্লাহমুখী।

১১:৭৬ یٰۤـاِبۡرٰهِیۡمُ اَعۡرِضۡ عَنۡ هٰذَا ۚ اِنَّهٗ قَدۡ جَآءَ اَمۡرُ رَبِّكَ ۚ وَ اِنَّهُمۡ اٰتِیۡهِمۡ عَذَابٌ غَیۡرُ مَرۡدُوۡدٍ ﴿۷۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

হে ইবরাহীম, তুমি এ থেকে বিরত হও। নিশ্চয় তোমার রবের সিদ্ধান্ত এসে গেছে এবং নিশ্চয় তাদের উপর আসবে আযাব, যা প্রতিহত হবার নয়।

১১:৭৭ وَ لَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَا لُوۡطًا سِیۡٓءَ بِهِمۡ وَ ضَاقَ بِهِمۡ ذَرۡعًا وَّ قَالَ هٰذَا یَوۡمٌ عَصِیۡبٌ ﴿۷۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন লূতের কাছে আমার ফেরেশতা আসল, তখন তাদের (আগমনের) কারণে তার অস্বস্তিবোধ হল এবং তার অন্তর খুব সঙ্কুচিত হয়ে গেল। আর সে বলল, ‘এ তো কঠিন দিন’।

১১:৭৮  وَ جَآءَهٗ قَوۡمُهٗ یُهۡرَعُوۡنَ اِلَیۡهِ ؕ وَ مِنۡ قَبۡلُ كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ هٰۤؤُلَآءِ بَنَاتِیۡ هُنَّ اَطۡهَرُ لَكُمۡ فَاتَّقُوا اللّٰهَ وَ لَا تُخۡزُوۡنِ فِیۡ ضَیۡفِیۡ ؕ اَلَـیۡسَ مِنۡكُمۡ رَجُلٌ رَّشِیۡدٌ ﴿۷۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তার কওম তার কাছে ছুটে আসল এবং ইতঃপূর্বে তারা মন্দ কাজ করত। সে বলল, ‘হে আমার কওম, এরা আমার মেয়ে, তারা তোমাদের জন্য পবিত্র। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার মেহমানদের ব্যাপারে তোমরা আমাকে অপমানিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কোন সুবোধ ব্যক্তি নেই’?

১১:৭৯  قَالُوۡا لَقَدۡ عَلِمۡتَ مَا لَنَا فِیۡ بَنٰتِكَ مِنۡ حَقٍّ ۚ وَ اِنَّكَ لَتَعۡلَمُ مَا نُرِیۡدُ ﴿۷۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘তুমি অবশ্যই জান, তোমার মেয়েদের ব্যাপারে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। আর আমরা কী চাই, তা তুমি নিশ্চয় জান’।

১১:৮০ قَالَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ بِكُمۡ قُوَّۃً اَوۡ اٰوِیۡۤ اِلٰی رُكۡنٍ شَدِیۡدٍ ﴿۸۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘তোমাদের প্রতিরোধে যদি আমার কোন শক্তি থাকত অথবা আমি কোন সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতে পারতাম’*!

১১:৮১ قَالُوۡا یٰلُوۡطُ اِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَنۡ یَّصِلُوۡۤا اِلَیۡكَ فَاَسۡرِ بِاَهۡلِكَ بِقِطۡعٍ مِّنَ الَّیۡلِ وَ لَا یَلۡتَفِتۡ مِنۡكُمۡ اَحَدٌ اِلَّا امۡرَاَتَكَ ؕ اِنَّهٗ مُصِیۡبُهَا مَاۤ اَصَابَهُمۡ ؕ اِنَّ مَوۡعِدَهُمُ الصُّبۡحُ ؕ اَلَـیۡسَ الصُّبۡحُ بِقَرِیۡبٍ ﴿۸۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে লূত, আমরা তোমার রবের প্রেরিত ফেরেশতা, তারা কখনো তোমার কাছে পৌঁছতে পারবে না। সুতরাং তুমি তোমার পরিবার নিয়ে রাতের কোন এক অংশে রওয়ানা হও, আর তোমাদের কেউ পিছে তাকাবে না। তবে তোমার স্ত্রী (রওয়ানা হবে না), কেননা তাকে তা-ই আক্রান্ত করবে যা তাদেরকে আক্রান্ত করবে। নিশ্চয় তাদের (আযাবের) নির্ধারিত সময় হচ্ছে সকাল। সকাল কি নিকটে নয়’?

১১:৮২ فَلَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا جَعَلۡنَا عَالِیَهَا سَافِلَهَا وَ اَمۡطَرۡنَا عَلَیۡهَا حِجَارَۃً مِّنۡ سِجِّیۡلٍ ۬ۙ مَّنۡضُوۡدٍ ﴿ۙ۸۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের উপরকে নীচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম,

১১:৮৩ مُّسَوَّمَۃً عِنۡدَ رَبِّكَ ؕ وَ مَا هِیَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ بِبَعِیۡدٍ ﴿۸۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যা চি‎‎হ্নত ছিল তোমার রবের কাছে। আর তা যালিমদের থেকে দূরে নয়।

১১:৮৪ وَ اِلٰی مَدۡیَنَ اَخَاهُمۡ شُعَیۡبًا ؕ قَالَ یٰقَوۡمِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ اِلٰهٍ غَیۡرُهٗ ؕ وَ لَا تَنۡقُصُوا الۡمِكۡیَالَ وَ الۡمِیۡزَانَ اِنِّیۡۤ اَرٰىكُمۡ بِخَیۡرٍ وَّ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡكُمۡ عَذَابَ یَوۡمٍ مُّحِیۡطٍ ﴿۸۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর মাদইয়ানে আমি (পাঠিয়েছিলাম) তাদের ভাই শু‘আইবকে। সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন (সত্য) ইলাহ নেই এবং মাপ ও ওযন কম করো না; আমি তো তোমাদের প্রাচুর্যশীল দেখছি, কিন্তু আমি তোমাদের উপর এক সর্বগ্রাসী দিনের আযাবের ভয় করছি’।

১১:৮৫ وَ یٰقَوۡمِ اَوۡفُوا الۡمِكۡیَالَ وَ الۡمِیۡزَانَ بِالۡقِسۡطِ وَ لَا تَبۡخَسُوا النَّاسَ اَشۡیَآءَهُمۡ وَ لَا تَعۡثَوۡا فِی الۡاَرۡضِ مُفۡسِدِیۡنَ ﴿۸۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর হে আমার কওম, মাপ ও ওযন পূর্ণ কর ইনসাফের সাথে এবং মানুষকে তাদের পণ্য কম দিও না; আর যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িও না,

১১:৮৬ بَقِیَّتُ اللّٰهِ خَیۡرٌ لَّكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ ۬ۚ وَ مَاۤ اَنَا عَلَیۡكُمۡ بِحَفِیۡظٍ ﴿۸۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আল্লাহর দেয়া উদ্বৃত্ত লাভ তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তো তোমাদের হিফাযতকারী নই’।

১১:৮৭ قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ اَصَلٰوتُكَ تَاۡمُرُكَ اَنۡ نَّتۡرُكَ مَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُنَاۤ اَوۡ اَنۡ نَّفۡعَلَ فِیۡۤ اَمۡوَالِنَا مَا نَشٰٓؤُاؕ اِنَّكَ لَاَنۡتَ الۡحَلِیۡمُ الرَّشِیۡدُ ﴿۸۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ প্রদান করে যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদাত করত, আমরা তাদের ত্যাগ করি? অথবা আমাদের সম্পদে আমরা ইচ্ছামত যা করি তাও (ত্যাগ করি?) তুমি তো বেশ সহনশীল সুবোধ’!

১১:৮৮ قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَءَیۡتُمۡ اِنۡ كُنۡتُ عَلٰی بَیِّنَۃٍ مِّنۡ رَّبِّیۡ وَ رَزَقَنِیۡ مِنۡهُ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ وَ مَاۤ اُرِیۡدُ اَنۡ اُخَالِفَكُمۡ اِلٰی مَاۤ اَنۡهٰكُمۡ عَنۡهُ ؕ اِنۡ اُرِیۡدُ اِلَّا الۡاِصۡلَاحَ مَا اسۡتَطَعۡتُ ؕ وَ مَا تَوۡفِیۡقِیۡۤ اِلَّا بِاللّٰهِ ؕعَلَیۡهِ تَوَكَّلۡتُ وَ اِلَیۡهِ اُنِیۡبُ ﴿۸۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা কী মনে কর, আমি যদি আমার রবের পক্ষ থেকে স্পষ্ট প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তম রিয্ক দান করে থাকেন (তাহলে কী করে আমি আমার দায়িত্ব পরিত্যাগ করব)! যে কাজ থেকে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি, তোমাদের বিরোধিতা করে সে কাজটি আমি করতে চাই না। আমি আমার সাধ্যমত সংশোধন চাই। আল্লাহর সহায়তা ছাড়া আমার কোন তওফীক নেই। আমি তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাই’।

১১:৮৯ وَ یٰقَوۡمِ لَا یَجۡرِمَنَّكُمۡ شِقَاقِیۡۤ اَنۡ یُّصِیۡبَكُمۡ مِّثۡلُ مَاۤ اَصَابَ قَوۡمَ نُوۡحٍ اَوۡ قَوۡمَ هُوۡدٍ اَوۡ قَوۡمَ صٰلِحٍ ؕ وَ مَا قَوۡمُ لُوۡطٍ مِّنۡكُمۡ بِبَعِیۡدٍ ﴿۸۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর হে আমার কওম, আমার সাথে বৈরিতা তোমাদেরকে যেন এমন কাজে প্ররোচিত না করে যার ফলে তোমাদের সেরূপ আযাব আসবে যেরূপ এসেছিল নূহের কওমের উপর অথবা হূদের কওমের উপর অথবা সালিহের কওমের উপর। আর লূতের কওম তো তোমাদের থেকে দূরে নয়’।

১১:৯০ وَ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوۡبُوۡۤا اِلَیۡهِ ؕ اِنَّ رَبِّیۡ رَحِیۡمٌ وَّدُوۡدٌ ﴿۹۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ইস্তিগফার কর অতঃপর তাঁরই কাছে তাওবা কর। নিশ্চয় আমার রব পরম দয়ালু, অতীব ভালবাসা পোষণকারী’।

১১:৯১ قَالُوۡا یٰشُعَیۡبُ مَا نَفۡقَهُ كَثِیۡرًا مِّمَّا تَقُوۡلُ وَ اِنَّا لَنَرٰىكَ فِیۡنَا ضَعِیۡفًا ۚ وَ لَوۡ لَا رَهۡطُكَ لَرَجَمۡنٰكَ ۫ وَ مَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡنَا بِعَزِیۡزٍ ﴿۹۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা বলল, ‘হে শু‘আইব, তুমি যা বল, তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না। আর তোমাকে তো আমরা আমাদের মধ্যে দুর্বলই দেখতে পাচ্ছি। যদি তোমার আত্মীয়-স্বজন না থাকত, তবে আমরা তোমাকে অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা করতাম। আর আমাদের উপর তুমি শক্তিশালী নও’।

১১:৯২ قَالَ یٰقَوۡمِ اَرَهۡطِیۡۤ اَعَزُّ عَلَیۡكُمۡ مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اتَّخَذۡتُمُوۡهُ وَرَآءَكُمۡ ظِهۡرِیًّا ؕ اِنَّ رَبِّیۡ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ مُحِیۡطٌ ﴿۹۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে বলল, ‘হে আমার কওম! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সম্মানিত? আর তোমরা তাঁকে একেবারে পেছনে ঠেলে দিলে? তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমার রব তা পরিবেষ্টন করে আছেন’।

১১:৯৩ وَ یٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَكَانَتِكُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ؕ سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ مَنۡ یَّاۡتِیۡهِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡهِ وَ مَنۡ هُوَ كَاذِبٌ ؕ وَ ارۡتَقِبُوۡۤا اِنِّیۡ مَعَكُمۡ رَقِیۡبٌ ﴿۹۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

‘আর হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার কাছে আসবে সে আযাব যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান।

১১:৯৪ وَ لَمَّا جَآءَ اَمۡرُنَا نَجَّیۡنَا شُعَیۡبًا وَّ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ بِرَحۡمَۃٍ مِّنَّا وَ اَخَذَتِ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الصَّیۡحَۃُ فَاَصۡبَحُوۡا فِیۡ دِیَارِهِمۡ جٰثِمِیۡنَ ﴿ۙ۹۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন আমার আদেশ আসল, তখন শু‘আইব ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তাদেরকে আমার পক্ষ থেকে রহমত দ্বারা নাজাত দিলাম এবং যারা যুলম করেছিল তাদেরকে পাকড়াও করল বিকট আওয়াজ। ফলে তারা নিজ নিজ গৃহে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকল।

১১:৯৫ كَاَنۡ لَّمۡ یَغۡنَوۡا فِیۡهَا ؕ اَلَا بُعۡدًا لِّمَدۡیَنَ كَمَا بَعِدَتۡ ثَمُوۡدُ ﴿۹۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যেন তারা সেখানে বসবাসই করেনি। জেনে রাখ, ধ্বংস মাদইয়ানের জন্য, যেরূপ ধ্বংস হয়েছে সামূদ জাতি।

১১:৯৬ وَ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا وَ سُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ﴿ۙ۹۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি মূসাকে আমার আয়াতসমূহ* ও স্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছি,

১১:৯৭  اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَ مَلَا۠ئِهٖ فَاتَّبَعُوۡۤا اَمۡرَ فِرۡعَوۡنَ ۚ وَ مَاۤ اَمۡرُ فِرۡعَوۡنَ بِرَشِیۡدٍ ﴿۹۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

ফির‘আউন ও তার নেতৃবৃন্দের কাছে। অতঃপর তারা ফির‘আউনের নির্দেশের অনুসরণ করল। আর ফির‘আউনের নির্দেশ সঠিক ছিল না।

১১:৯৮ یَقۡدُمُ قَوۡمَهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فَاَوۡرَدَهُمُ النَّارَ ؕ وَ بِئۡسَ الۡوِرۡدُ الۡمَوۡرُوۡدُ ﴿۹۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

কিয়ামত দিবসে সে তার কওমের অগ্রভাগে থাকবে এবং তাদেরকে আগুনে উপনীত করে দেবে। যেখানে তারা উপনীত হবে সেটা উপনীত হওয়ার কতইনা নিকৃষ্ট স্থান!

১১:৯৯ وَ اُتۡبِعُوۡا فِیۡ هٰذِهٖ لَعۡنَۃً وَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ بِئۡسَ الرِّفۡدُ الۡمَرۡفُوۡدُ ﴿۹۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর এখানে (দুনিয়ায়) লা‘নত তাদের পেছনে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে এবং কিয়ামত দিবসেও। কি নিকৃষ্ট প্রতিদান, যা তাদের দেয়া হবে।

১১:১০০  ذٰلِكَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الۡقُرٰی نَقُصُّهٗ عَلَیۡكَ مِنۡهَا قَآئِمٌ وَّ حَصِیۡدٌ ﴿۱۰۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এ হচ্ছে জনপদসমূহের কিছু সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। তা থেকে কিছু আছে বিদ্যমান এবং কিছু হয়েছে বিলুপ্ত।

১১:১০১ وَ مَا ظَلَمۡنٰهُمۡ وَ لٰكِنۡ ظَلَمُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ فَمَاۤ اَغۡنَتۡ عَنۡهُمۡ اٰلِهَتُهُمُ الَّتِیۡ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مِنۡ شَیۡءٍ لَّمَّا جَآءَ اَمۡرُ رَبِّكَ ؕ وَ مَا زَادُوۡهُمۡ غَیۡرَ تَتۡبِیۡبٍ ﴿۱۰۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজদের উপর যুলম করেছে। তারপর যখন তোমার রবের নির্দেশ আসল তখন আল্লাহ ছাড়া যে সব উপাস্যকে তারা ডাকত, তারা তাদের কোন উপকার করেনি এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।

১১:১০২ وَ كَذٰلِكَ اَخۡذُ رَبِّكَ اِذَاۤ اَخَذَ الۡقُرٰی وَ هِیَ ظَالِمَۃٌ ؕ اِنَّ اَخۡذَهٗۤ اَلِیۡمٌ شَدِیۡدٌ ﴿۱۰۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর এরূপই হয় তোমার রবের পাকড়াও যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড়ই যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর।

১১:১০৩ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّمَنۡ خَافَ عَذَابَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ ذٰلِكَ یَوۡمٌ مَّجۡمُوۡعٌ ۙ لَّهُ النَّاسُ وَ ذٰلِكَ یَوۡمٌ مَّشۡهُوۡدٌ ﴿۱۰۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে। সেটি এমন একটি দিন, যেদিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং সেটি এমন এক দিন, যেদিন সবাই হাযির হবে।

১১:১০৪ وَ مَا نُؤَخِّرُهٗۤ اِلَّا لِاَجَلٍ مَّعۡدُوۡدٍ ﴿۱۰۴﴾ؕ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্যই আমি তা বিলম্বিত করছি।

১১:১০৫ یَوۡمَ یَاۡتِ لَا تَكَلَّمُ نَفۡسٌ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ ۚ فَمِنۡهُمۡ شَقِیٌّ وَّ سَعِیۡدٌ ﴿۱۰۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যেদিন তা আসবে সেদিন তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলবে না। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে কেউ দুর্ভাগা, আর কেউ সৌভাগ্যবান।

১১:১০৬ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ شَقُوۡا فَفِی النَّارِ لَهُمۡ فِیۡهَا زَفِیۡرٌ وَّ شَهِیۡقٌ ﴿۱۰۶﴾ۙ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর যারা হয়েছে দুর্ভাগা, তারা থাকবে আগুনে। সেখানে থাকবে তাদের চীৎকার ও আর্তনাদ।

১১:১০৭ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَ الۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّكَ ؕ اِنَّ رَبَّكَ فَعَّالٌ لِّمَا یُرِیۡدُ ﴿۱۰۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সেখানে তারা স্থায়ী হবে, যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে*, অবশ্য তোমার রব যা চান**। নিশ্চয় তোমার রব তা-ই করে যা তিনি ইচ্ছা করেন।

১১:১০৮ وَ اَمَّا الَّذِیۡنَ سُعِدُوۡا فَفِی الۡجَنَّۃِ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا مَا دَامَتِ السَّمٰوٰتُ وَ الۡاَرۡضُ اِلَّا مَا شَآءَ رَبُّكَ ؕ عَطَآءً غَیۡرَ مَجۡذُوۡذٍ ﴿۱۰۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা ভাগ্যবান হয়েছে, তারা জান্নাতে থাকবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে যতদিন পর্যন্ত আসমানসমূহ ও যমীন থাকবে, অবশ্য তোমার রব যা চান*, অব্যাহত প্রতিদানস্বরূপ।

১১:১০৯ فَلَا تَكُ فِیۡ مِرۡیَۃٍ مِّمَّا یَعۡبُدُ هٰۤؤُلَآءِ ؕ مَا یَعۡبُدُوۡنَ اِلَّا كَمَا یَعۡبُدُ اٰبَآؤُهُمۡ مِّنۡ قَبۡلُ ؕ وَ اِنَّا لَمُوَفُّوۡهُمۡ نَصِیۡبَهُمۡ غَیۡرَ مَنۡقُوۡصٍ ﴿۱۰۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং এরা যাদের উপাসনা করে, তুমি তাদের ব্যাপারে সংশয়ে থেকো না। তারা তো ইবাদাত করে, যেমন ইতঃপূর্বে ইবাদাত করত তাদের পিতৃপুরুষগণ। নিশ্চয় আমি তাদের অংশ হ্রাস না করে তাদেরকে পুরোপুরি দেব।

১১:১১০ وَ لَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡكِتٰبَ فَاخۡتُلِفَ فِیۡهِ ؕ وَ لَوۡ لَا كَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّكَ لَقُضِیَ بَیۡنَهُمۡ ؕ وَ اِنَّهُمۡ لَفِیۡ شَكٍّ مِّنۡهُ مُرِیۡبٍ ﴿۱۱۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতঃপর তাতে মতবিরোধ করা হয়েছিল। যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকত*, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত। আর নিশ্চয় তারা এ ব্যাপারে ঘোর সন্দেহে রয়েছে।

১১:১১১ وَ اِنَّ كُلًّا لَّمَّا لَیُوَفِّیَنَّهُمۡ رَبُّكَ اَعۡمَالَهُمۡ ؕ اِنَّهٗ بِمَا یَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ﴿۱۱۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর নিশ্চয় তোমার রব সবাইকে তাদের আমলের প্রতিদান পুরোপুরি দান করবেন। তারা যা আমল করে, অবশ্যই তিনি সে ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।

১১:১১২ فَاسۡتَقِمۡ كَمَاۤ اُمِرۡتَ وَ مَنۡ تَابَ مَعَكَ وَ لَا تَطۡغَوۡا ؕ اِنَّهٗ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ﴿۱۱۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং যেভাবে তুমি নির্দেশিত হয়েছ সেভাবে তুমি ও তোমার সাথী যারা তাওবা করেছে, সকলে অবিচল থাক। আর সীমালঙ্ঘন করো না। তোমরা যা করছ নিশ্চয় তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।

১১:১১৩ وَ لَا تَرۡكَنُوۡۤا اِلَی الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا فَتَمَسَّكُمُ النَّارُ ۙ وَ مَا لَكُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مِنۡ اَوۡلِیَآءَ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ ﴿۱۱۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা যুলম করেছে তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় আগুন তোমাদেরকে স্পর্শ করবে এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। অতঃপর তোমরা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।

১১:১১৪ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ طَرَفَیِ النَّهَارِ وَ زُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ ؕ اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡهِبۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ ذٰلِكَ ذِكۡرٰی لِلذّٰكِرِیۡنَ ﴿۱۱۴﴾ۚ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তুমি সালাত কায়েম কর দিবসের দু’প্রান্তে এবং রাতের প্রথম অংশে*। নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ।

১১:১১৫ وَ اصۡبِرۡ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یُضِیۡعُ اَجۡرَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ﴿۱۱۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তুমি সবর কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ইহসানকারীদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।

১১:১১৬ فَلَوۡ لَا كَانَ مِنَ الۡقُرُوۡنِ مِنۡ قَبۡلِكُمۡ اُولُوۡا بَقِیَّۃٍ یَّنۡهَوۡنَ عَنِ الۡفَسَادِ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا قَلِیۡلًا مِّمَّنۡ اَنۡجَیۡنَا مِنۡهُمۡ ۚ وَ اتَّبَعَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَاۤ اُتۡرِفُوۡا فِیۡهِ وَ كَانُوۡا مُجۡرِمِیۡنَ ﴿۱۱۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমূহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা যমীনে ফাসাদ করা থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্য থেকে নাজাত দিয়েছিলাম। আর যারা যুলম করেছে, তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী।

১১:১১৭ وَ مَا كَانَ رَبُّكَ لِیُهۡلِكَ الۡقُرٰی بِظُلۡمٍ وَّ اَهۡلُهَا مُصۡلِحُوۡنَ ﴿۱۱۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমার রব এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদসমূহ ধ্বংস করে দেবেন, অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।

১১:১১৮ وَ لَوۡ شَآءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّ لَا یَزَالُوۡنَ مُخۡتَلِفِیۡنَ ﴿۱۱۸﴾ۙ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যদি তোমার রব চাইতেন, তবে সকল মানুষকে এক উম্মতে পরিণত করতেন, কিন্তু তারা পরস্পর মতবিরোধকারী রয়ে গেছে,

১১:১১৯ اِلَّا مَنۡ رَّحِمَ رَبُّكَ ؕ وَ لِذٰلِكَ خَلَقَهُمۡ ؕ وَ تَمَّتۡ كَلِمَۃُ رَبِّكَ لَاَمۡلَـَٔنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الۡجِنَّۃِ وَ النَّاسِ اَجۡمَعِیۡنَ ﴿۱۱۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তবে যাদেরকে তোমার রব দয়া করেছেন, তারা ছাড়া। আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমার রবের কথা চূড়ান্ত হয়েছে যে, ‘নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম ভরে দেব জিন ও মানুষ দ্বারা একত্রে’।

১১:১২০ وَ كُلًّا نَّقُصُّ عَلَیۡكَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ الرُّسُلِ مَا نُثَبِّتُ بِهٖ فُؤَادَكَ ۚ وَ جَآءَكَ فِیۡ هٰذِهِ الۡحَقُّ وَ مَوۡعِظَۃٌ وَّ ذِكۡرٰی لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ ﴿۱۲۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর রাসূলদের এসকল সংবাদ আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি যার দ্বারা আমি তোমার মনকে স্থির করি আর এতে তোমার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও স্মরণ।

১১:১২১ وَ قُلۡ لِّلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَكَانَتِكُمۡ ؕ اِنَّا عٰمِلُوۡنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা ঈমান আনছে না তাদেরকে বল, ‘তোমরা স্ব স্ব অবস্থানে কাজ কর আমরাও কাজ করছি।

১১:১২২ وَ انۡتَظِرُوۡا ۚ اِنَّا مُنۡتَظِرُوۡنَ ﴿۱۲۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এবং তোমরা অপেক্ষা কর আমরাও অপেক্ষমান’।

১১:১২৩ وَ لِلّٰهِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ اِلَیۡهِ یُرۡجَعُ الۡاَمۡرُ كُلُّهٗ فَاعۡبُدۡهُ وَ تَوَكَّلۡ عَلَیۡهِ ؕ وَ مَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۱۲۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আসমানসমূহ ও যমীনের গায়েব আল্লাহরই এবং তাঁরই কাছে সব বিষয় প্রত্যাবর্তিত হবে। সুতরাং তুমি তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল কর। আর তোমরা যা কিছু কর সে ব্যাপারে তোমার রব গাফেল নন।

Skip to toolbar