Curriculum
Course: Tafsir
Login

Curriculum

Tafsir

0/172

0/0
Text lesson

১৬. আন-নাহাল | An-Nahl | سورة النحل

 بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

Image

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

১৬:১ اَتٰۤی اَمۡرُ اللّٰهِ فَلَا تَسۡتَعۡجِلُوۡهُ ؕ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ ﴿۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহর আদেশ এসে গেছে, সুতরাং তার জন্য তাড়াহুড়া করো না। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শিরক করে, তা থেকে ঊর্ধ্বে।

১৬:২ یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِكَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِهٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖۤ اَنۡ اَنۡذِرُوۡۤا اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوۡنِ ﴿۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনি ফেরেশতাদের আপন নির্দেশে ওহী* দিয়ে নাযিল করেন তার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তার প্রতি; যেন তোমরা সতর্ক কর যে, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। অতএব, তোমরা আমাকে ভয় কর।

১৬:৩ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ؕ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِكُوۡنَ ﴿۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন যথাযথই, তারা যা শরীক করে, তা থেকে তিনি ঊর্ধ্বে।

১৬:৪ خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ فَاِذَا هُوَ خَصِیۡمٌ مُّبِیۡنٌ ﴿۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ‘নুতফা’* থেকে, অথচ সে প্রকাশ্য বিতন্ডাকারী।

১৬:৫ وَ الۡاَنۡعَامَ خَلَقَهَا ۚ لَكُمۡ فِیۡهَا دِفۡءٌ وَّ مَنَافِعُ وَ مِنۡهَا تَاۡكُلُوۡنَ ﴿۪۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর চতুষ্পদ জন্তুগুলো তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তাতে রয়েছে উষ্ণতার উপকরণ ও বিবিধ উপকার। আর তা থেকে তোমরা আহার গ্রহণ কর।

১৬:৬ وَ لَكُمۡ فِیۡهَا جَمَالٌ حِیۡنَ تُرِیۡحُوۡنَ وَ حِیۡنَ تَسۡرَحُوۡنَ ﴿۪۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে সৌন্দর্য যখন সন্ধ্যায় তা ফিরিয়ে আন এবং সকালে চারণে নিয়ে যাও।

১৬:৭ وَ تَحۡمِلُ اَثۡقَالَكُمۡ اِلٰی بَلَدٍ لَّمۡ تَكُوۡنُوۡا بٰلِغِیۡهِ اِلَّا بِشِقِّ الۡاَنۡفُسِ ؕ اِنَّ رَبَّكُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ۙ﴿۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর এগুলো তোমাদের বোঝা বহন করে এমন দেশে নিয়ে যায়, ভীষণ কষ্ট ছাড়া যেখানে তোমরা পৌঁছতে সক্ষম হতে না। নিশ্চয় তোমাদের রব দয়াশীল, পরম দয়ালু।

১৬:৮ وَّ الۡخَیۡلَ وَ الۡبِغَالَ وَ الۡحَمِیۡرَ لِتَرۡكَبُوۡهَا وَ زِیۡنَۃً ؕ وَ یَخۡلُقُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর (তিনি সৃষ্টি করেছেন) ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা, তোমাদের আরোহণ ও শোভার জন্য এবং তিনি সৃষ্টি করেন এমন কিছু, যা তোমরা জান না।

১৬:৯ وَ عَلَی اللّٰهِ قَصۡدُ السَّبِیۡلِ وَ مِنۡهَا جَآئِرٌ ؕ وَ لَوۡ شَآءَ لَهَدٰىكُمۡ اَجۡمَعِیۡنَ ﴿۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর সঠিক পথ বাতলে দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব, এবং পথের মধ্যে কিছু আছে বক্র। আর তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সকলকে হিদায়াত করতেন।

১৬:১০ هُوَ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً لَّكُمۡ مِّنۡهُ شَرَابٌ وَّ مِنۡهُ شَجَرٌ فِیۡهِ تُسِیۡمُوۡنَ ﴿۱۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনিই সে সত্তা, যিনি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, যাতে রয়েছে তোমাদের জন্য পানীয় এবং তা থেকে হয় উদ্ভিত, যাতে তোমরা জন্তু চরাও।

১৬:১১ یُنۡۢبِتُ لَكُمۡ بِهِ الزَّرۡعَ وَ الزَّیۡتُوۡنَ وَ النَّخِیۡلَ وَ الۡاَعۡنَابَ وَ مِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَكَّرُوۡنَ ﴿۱۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন ফসল, যাইতুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সকল ফল-ফলাদি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।

১৬:১২ وَ سَخَّرَ لَكُمُ الَّیۡلَ وَ النَّهَارَ ۙ وَ الشَّمۡسَ وَ الۡقَمَرَ ؕ وَ النُّجُوۡمُ مُسَخَّرٰتٌۢ بِاَمۡرِهٖ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ﴿ۙ۱۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তিনি তোমাদের জন্য নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে এবং সূর্য ও চাঁদকে এবং তারকাসমূহও তাঁর নির্দেশে নিয়োজিত। নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য যারা বুঝে।

১৬:১৩ وَ مَا ذَرَاَ لَكُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُخۡتَلِفًا اَلۡوَانُهٗ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّذَّكَّرُوۡنَ ﴿۱۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তিনি তোমাদের জন্য যমীনে যা সৃষ্টি করেছেন, বিচিত্র রঙের করে, নিশ্চয় তাতেও নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা উপদেশ গ্রহণ করে।

১৬:১৪ وَ هُوَ الَّذِیۡ سَخَّرَ الۡبَحۡرَ لِتَاۡكُلُوۡا مِنۡهُ لَحۡمًا طَرِیًّا وَّ تَسۡتَخۡرِجُوۡا مِنۡهُ حِلۡیَۃً تَلۡبَسُوۡنَهَا ۚ وَ تَرَی الۡفُلۡكَ مَوَاخِرَ فِیۡهِ وَ لِتَبۡتَغُوۡا مِنۡ فَضۡلِهٖ وَ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُوۡنَ ﴿۱۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তিনিই সে সত্তা, যিনি সমুদ্রকে নিয়োজিত করেছেন, যাতে তোমরা তা থেকে তাজা (মাছের) গোশ্ত খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার অলংকারাদি, যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি তাতে নৌযান দেখবে তা পানি চিরে চলছে এবং যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ করতে পার এবং যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।

১৬:১৫ وَ اَلۡقٰی فِی الۡاَرۡضِ رَوَاسِیَ اَنۡ تَمِیۡدَ بِكُمۡ وَ اَنۡهٰرًا وَّ سُبُلًا لَّعَلَّكُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ ﴿ۙ۱۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যমীনে তিনি স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা, যাতে তোমাদের নিয়ে যমীন হেলে না যায় এবং নদ-নদী ও পথসমূহ, যাতে তোমরা পথপ্রাপ্ত হও।

১৬:১৬ وَ عَلٰمٰتٍ ؕ وَ بِالنَّجۡمِ هُمۡ یَهۡتَدُوۡنَ ﴿۱۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর (দিনের) পথ-নির্দেশক চি‎হ্নসমূহ, আরা (রাতে) তারকার মাধ্যমে তারা পথ পায়।

১৬:১৭ اَفَمَنۡ یَّخۡلُقُ كَمَنۡ لَّا یَخۡلُقُ ؕ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ ﴿۱۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং যে সৃষ্টি করে, সে কি তার মত, যে সৃষ্টি করে না? অতএব তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?

১৬:১৮ وَ اِنۡ تَعُدُّوۡا نِعۡمَۃَ اللّٰهِ لَا تُحۡصُوۡهَا ؕ اِنَّ اللّٰهَ لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যদি তোমরা আল্লাহর নিআমত গণনা কর, তবে তার ইয়ত্তা পাবে না। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

১৬:১৯ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ مَا تُسِرُّوۡنَ وَ مَا تُعۡلِنُوۡنَ ﴿۱۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ জানেন তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ্যে ঘোষণা কর।

১৬:২০ وَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ لَا یَخۡلُقُوۡنَ شَیۡئًا وَّ هُمۡ یُخۡلَقُوۡنَ ﴿ؕ۲۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তারা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকে, তারা কিছু সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়।

১৬:২১ اَمۡوَاتٌ غَیۡرُ اَحۡیَآءٍ ۚ وَ مَا یَشۡعُرُوۡنَ ۙ اَیَّانَ یُبۡعَثُوۡنَ ﴿۲۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

(তারা) মৃত, জীবিত নয় এবং তারা জানে না কখন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।

১৬:২২ اِلٰـهُكُمۡ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ قُلُوۡبُهُمۡ مُّنۡكِرَۃٌ وَّ هُمۡ مُّسۡتَكۡبِرُوۡنَ ﴿۲۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। অতঃপর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর অস্বীকারকারী এবং তারা অহঙ্কারী।

১৬:২৩ لَاجَرَمَ اَنَّ اللّٰهَ یَعۡلَمُ مَا یُسِرُّوۡنَ وَ مَا یُعۡلِنُوۡنَ ؕ اِنَّهٗ لَا یُحِبُّ الۡمُسۡتَكۡبِرِیۡنَ ﴿۲۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিঃসন্দেহে তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ্যে ঘোষণা করে, নিশ্চয় তা আল্লাহ জানেন। নিশ্চয় তিনি অহঙ্কারীদের পছন্দ করেন না।

১৬:২৪ وَ اِذَا قِیۡلَ لَهُمۡ مَّا ذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّكُمۡ ۙ قَالُوۡۤا اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿ۙ۲۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন’? তারা বলে, ‘পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী’।

১৬:২৫ لِیَحۡمِلُوۡۤا اَوۡزَارَهُمۡ كَامِلَۃً یَّوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۙ وَ مِنۡ اَوۡزَارِ الَّذِیۡنَ یُضِلُّوۡنَهُمۡ بِغَیۡرِ عِلۡمٍ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَزِرُوۡنَ ﴿۲۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এতে করে তারা কিয়ামতের দিনে নিজদের পাপের বোঝা পুরোটাই বহন করবে এবং তাদের পাপের বোঝাও যাদেরকে তারা অজ্ঞতা হেতু পথভ্রষ্ট করে। তারা যা বহন করবে, তা কতই না নিকৃষ্ট!

১৬:২৬ قَدۡ مَكَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ فَاَتَی اللّٰهُ بُنۡیَانَهُمۡ مِّنَ الۡقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیۡهِمُ السَّقۡفُ مِنۡ فَوۡقِهِمۡ وَ اَتٰىهُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿۲۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের উপর থেকে তাদের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল। আর তাদের উপর আযাব এসছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।

১৬:২৬ قَدۡ مَكَرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ فَاَتَی اللّٰهُ بُنۡیَانَهُمۡ مِّنَ الۡقَوَاعِدِ فَخَرَّ عَلَیۡهِمُ السَّقۡفُ مِنۡ فَوۡقِهِمۡ وَ اَتٰىهُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿۲۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তাদের পূর্বে যারা ছিল, তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদের দালানের ভীতে আঘাত করেছিলেন, ফলে তাদের উপর থেকে তাদের ছাদ ধ্বসে পড়েছিল। আর তাদের উপর আযাব এসছিল এমনভাবে যে, তারা তা উপলব্ধি করতে পারেনি।

১৬:২৭ ثُمَّ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ یُخۡزِیۡهِمۡ وَ یَقُوۡلُ اَیۡنَ شُرَكَآءِیَ الَّذِیۡنَ كُنۡتُمۡ تُشَآقُّوۡنَ فِیۡهِمۡ ؕ قَالَ الَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ اِنَّ الۡخِزۡیَ الۡیَوۡمَ وَ السُّوۡٓءَ عَلَی الۡكٰفِرِیۡنَ ﴿ۙ۲۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন এবং বলবেন, ‘কোথায় আমার শরীকরা, যাদের ব্যাপারে তোমরা (মুমিনদের) বিরোধীতা করতে’? যাদেরকে জ্ঞান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে, ‘নিশ্চয় লাঞ্ছনা ও দুর্গতি আজ কাফিরদের উপর।’

১৬:২৮ الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ ظَالِمِیۡۤ اَنۡفُسِهِمۡ ۪ فَاَلۡقَوُا السَّلَمَ مَا كُنَّا نَعۡمَلُ مِنۡ سُوۡٓءٍ ؕ بَلٰۤی اِنَّ اللّٰهَ عَلِیۡمٌۢ بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۲۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। অতঃপর তারা আত্মসমর্পণ করে বলবে, ‘আমরা কোন পাপ করতাম না।’ হ্যাঁ, নিশ্চয় তোমরা যা করতে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক জ্ঞাত।

১৬:২৯ فَادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَهَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ فَلَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَكَبِّرِیۡنَ ﴿۲۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ী হয়ে। অতএব অবশ্যই অহঙ্কারীদের আবাস অতিনিকৃষ্ট।

১৬:৩০ وَ قِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا مَاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّكُمۡ ؕ قَالُوۡا خَیۡرًا ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ هٰذِهِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَ لَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ ؕ وَ لَنِعۡمَ دَارُ الۡمُتَّقِیۡنَ ﴿ۙ۳۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা তাকওয়ার অবলম্বন করেছে, তাদের বলা হল, ‘তোমাদের রব কী নাযিল করেছেন’? তারা বলল, ‘কল্যাণ’। যারা এই দুনিয়ায় উত্তম কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে পুণ্য। আর নিশ্চয় আখিরাতের আবাস উত্তম এবং মুত্তাকীদের আবাস কতইনা উত্তম!

১৬:৩১ وَ قِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا مَاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّكُمۡ ؕ قَالُوۡا خَیۡرًا ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ هٰذِهِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَ لَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ ؕ وَ لَنِعۡمَ دَارُ الۡمُتَّقِیۡنَ ﴿ۙ۳۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

স্থায়ী জান্নাতসমূহ যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। তারা চাইবে, তাদের জন্য তার মধ্যে তাই থাকবে। এভাবেই আল্লাহ মুত্তাকীদের প্রতিদান দেন।

১৬:৩১ وَ قِیۡلَ لِلَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا مَاذَاۤ اَنۡزَلَ رَبُّكُمۡ ؕ قَالُوۡا خَیۡرًا ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ هٰذِهِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَ لَدَارُ الۡاٰخِرَۃِ خَیۡرٌ ؕ وَ لَنِعۡمَ دَارُ الۡمُتَّقِیۡنَ ﴿ۙ۳۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

স্থায়ী জান্নাতসমূহ যাতে তারা প্রবেশ করবে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ। তারা চাইবে, তাদের জন্য তার মধ্যে তাই থাকবে। এভাবেই আল্লাহ মুত্তাকীদের প্রতিদান দেন।

১৬:৩২ الَّذِیۡنَ تَتَوَفّٰىهُمُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ طَیِّبِیۡنَ ۙ یَقُوۡلُوۡنَ سَلٰمٌ عَلَیۡكُمُ ۙ ادۡخُلُوا الۡجَنَّۃَ بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۳۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে।

১৬:৩৩ هَلۡ یَنۡظُرُوۡنَ اِلَّاۤ اَنۡ تَاۡتِیَهُمُ الۡمَلٰٓئِكَۃُ اَوۡ یَاۡتِیَ اَمۡرُ رَبِّكَ ؕ كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ ؕ وَ مَا ظَلَمَهُمُ اللّٰهُ وَ لٰكِنۡ كَانُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ﴿۳۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা শুধু ফেরেশতা আসার অপেক্ষা করছে অথবা তোমার রবের সিদ্ধান্ত আসার। এমনি করেছিল তারা, যারা তাদের পূর্বে ছিল। আর আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, বরং তারাই নিজদের উপর যুলম করেছিল।

১৬:৩৪ فَاَصَابَهُمۡ سَیِّاٰتُ مَا عَمِلُوۡا وَ حَاقَ بِهِمۡ مَّا كَانُوۡا بِهٖ یَسۡتَهۡزِءُوۡنَ ﴿۳۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং তারা যা করেছে, তার খারাপ পরিণতি তাদেরকে আক্রান্ত করেছে এবং তারা যা নিয়ে উপহাস করত, তা তাদেরকে ঘিরে ফেলেছে।

১৬:৩৫ وَ قَالَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَكُوۡا لَوۡ شَآءَ اللّٰهُ مَا عَبَدۡنَا مِنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ شَیۡءٍ نَّحۡنُ وَ لَاۤ اٰبَآؤُنَا وَ لَا حَرَّمۡنَا مِنۡ دُوۡنِهٖ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ كَذٰلِكَ فَعَلَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِهِمۡ ۚ فَهَلۡ عَلَی الرُّسُلِ اِلَّا الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۳۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা শিরক করেছে, তারা বলল, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা তাকে ছাড়া কোন কিছুর ইবাদাত করতাম না এবং আমাদের পিতৃপুরুষরাও না। আর তার বিপরীতে তো আমরা কোন কিছু হারাম করতাম না। এমনিই করেছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। সুতরাং স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া ছাড়া রাসূলদের কি কোন কর্তব্য আছে?

১৬:৩৬ وَ لَقَدۡ بَعَثۡنَا فِیۡ كُلِّ اُمَّۃٍ رَّسُوۡلًا اَنِ اعۡبُدُوا اللّٰهَ وَ اجۡتَنِبُوا الطَّاغُوۡتَ ۚ فَمِنۡهُمۡ مَّنۡ هَدَی اللّٰهُ وَ مِنۡهُمۡ مَّنۡ حَقَّتۡ عَلَیۡهِ الضَّلٰلَۃُ ؕ فَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَانۡظُرُوۡا كَیۡفَ كَانَ عَاقِبَۃُ الۡمُكَذِّبِیۡنَ ﴿۳۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতিতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর এবং পরিহার কর তাগূতকে। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ কাউকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে কারো উপর পথভ্রষ্টতা সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর অতঃপর দেখ, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কীরূপ হয়েছে।

১৬:৩৭ اِنۡ تَحۡرِصۡ عَلٰی هُدٰىهُمۡ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِیۡ مَنۡ یُّضِلُّ وَ مَا لَهُمۡ مِّنۡ نّٰصِرِیۡنَ ﴿۳۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যদিও তুমি তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা কর, তবু নিশ্চয় আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।

১৬:৩৮ وَ اَقۡسَمُوۡا بِاللّٰهِ جَهۡدَ اَیۡمَانِهِمۡ ۙ لَا یَبۡعَثُ اللّٰهُ مَنۡ یَّمُوۡتُ ؕ بَلٰی وَعۡدًا عَلَیۡهِ حَقًّا وَّ لٰكِنَّ اَكۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿ۙ۳۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়. আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দেবেন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।

১৬:৩৯ لِیُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِیۡ یَخۡتَلِفُوۡنَ فِیۡهِ وَ لِیَعۡلَمَ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡۤا اَنَّهُمۡ كَانُوۡا كٰذِبِیۡنَ ﴿۳۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যাতে তিনি তাদের জন্য স্পষ্ট করেন, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে। আর যারা কুফরী করেছে, যেন তারা জানতে পারে যে, নিশ্চয় তারা ছিল মিথ্যাবাদী।

১৬:৪০ اِنَّمَا قَوۡلُنَا لِشَیۡءٍ اِذَاۤ اَرَدۡنٰهُ اَنۡ نَّقُوۡلَ لَهٗ كُنۡ فَیَكُوۡنُ ﴿۴۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যখন আমি কোন কিছুর ইচ্ছা করি, তখন আমার কথা হয় কেবল এই বলা যে, ‘হও’, ফলে তা হয়ে যায়।

১৬:৪১ وَ الَّذِیۡنَ هَاجَرُوۡا فِی اللّٰهِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا ظُلِمُوۡا لَـنُبَوِّئَنَّهُمۡ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ وَ لَاَجۡرُ الۡاٰخِرَۃِ اَكۡبَرُ ۘ لَوۡ كَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿ۙ۴۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা হিজরত করেছে আল্লাহর রাস্তায় অত্যাচারিত হওয়ার পর, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাস দান করব। আর আখিরাতের প্রতিদান তো বিশাল, যদি তারা জানত।

১৬:৪২ الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡا وَ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَكَّلُوۡنَ ﴿۴۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা সবর করেছে এবং তাদের রবের উপরই তাওয়াক্কুল করেছে।

১৬:৪৩ وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِكَ اِلَّا رِجَالًا نُّوۡحِیۡۤ اِلَیۡهِمۡ فَسۡـَٔلُوۡۤا اَهۡلَ الذِّكۡرِ اِنۡ كُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿ۙ۴۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি তোমার পূর্বে কেবল পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের প্রতি আমি ওহী পাঠিয়েছি। সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জানো।

১৬:৪৪ بِالۡبَیِّنٰتِ وَ الزُّبُرِ ؕ وَ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡكَ الذِّكۡرَ لِتُبَیِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ اِلَیۡهِمۡ وَ لَعَلَّهُمۡ یَتَفَكَّرُوۡنَ ﴿۴۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

(তাদের প্রেরণ করেছি) স্পষ্ট প্রমাণাদি ও কিতাবসমূহ এবং তোমার প্রতি নাযিল করেছি কুরআন, যাতে তুমি মানুষের জন্য স্পষ্ট করে দিতে পার, যা তাদের প্রতি নাযিল হয়েছে। আর যাতে তারা চিন্তা করে।

১৬:৪৫ اَفَاَمِنَ الَّذِیۡنَ مَكَرُوا السَّیِّاٰتِ اَنۡ یَّخۡسِفَ اللّٰهُ بِهِمُ الۡاَرۡضَ اَوۡ یَاۡتِیَهُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿ۙ۴۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা মন্দের ষড়যন্ত্র করে তারা কি নিরাপদ হয়ে গেছে যে, আল্লাহ তাদেরসহ মাটিকে ধ্বসিয়ে দেবেন না। অথবা তাদের উপর আসবে না, আযাব এমনভাবে যে, তারা উপলব্ধি করবে না?

১৬:৪৬ اَوۡ یَاۡخُذَهُمۡ فِیۡ تَقَلُّبِهِمۡ فَمَا هُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ﴿ۙ۴۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অথবা তিনি তাদের চলাফেরার ভেতর তাদেরকে পাকড়াও করবেন না? বস্তুত তারা (আল্লাহকে) পরাস্তকারী নয়।

১৬:৪৭  اَوۡ یَاۡخُذَهُمۡ عَلٰی تَخَوُّفٍ ؕ فَاِنَّ رَبَّكُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۴۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

কিংবা তিনি তাদেরকে ভীত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না? নিশ্চয় তোমাদের রব অতিশয় দয়াশীল, পরম দয়ালু।

১৬:৪৮ اَوَ لَمۡ یَرَوۡا اِلٰی مَا خَلَقَ اللّٰهُ مِنۡ شَیۡءٍ یَّتَفَیَّؤُا ظِلٰلُهٗ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَ الشَّمَآئِلِ سُجَّدًا لِّلّٰهِ وَ هُمۡ دٰخِرُوۡنَ ﴿۴۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহ যে সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তারা কি সে দিকে তাকায়নি, যার ছায়াসমূহ ডানে ও বামে হেলে পড়ে আল্লাহর জন্য সিজাদারত অবস্থায়, আর তারা একান্ত বিনীত?

১৬:৪৯ وَ لِلّٰهِ یَسۡجُدُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّ الۡمَلٰٓئِكَۃُ وَ هُمۡ لَا یَسۡتَكۡبِرُوۡنَ ﴿۴۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহকেই সিজদা করে আসমানসমূহে যা আছে এবং যমীনে যে প্রাণী আছে, আর ফেরেশতারা এবং তারা অহঙ্কার করে না।

১৬:৫০ یَخَافُوۡنَ رَبَّهُمۡ مِّنۡ فَوۡقِهِمۡ وَ یَفۡعَلُوۡنَ مَا یُؤۡمَرُوۡنَ ﴿ٛ۵۰﴾ (سُجود‎‎)

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা তাদের উপরস্থ রবকে ভয় করে এবং তাদেরকে যা নির্দেশ দেয়া হয়, তারা তা করে। [সাজদাহ] ۩

১৬:৫১  وَ قَالَ اللّٰهُ لَا تَتَّخِذُوۡۤا اِلٰـهَیۡنِ اثۡنَیۡنِ ۚ اِنَّمَا هُوَ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَاِیَّایَ فَارۡهَبُوۡنِ ﴿۵۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না। তিনি তো কেবল এক ইলাহ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় কর।’

১৬:৫২    وَ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ وَ لَهُ الدِّیۡنُ وَاصِبًا ؕ اَفَغَیۡرَ اللّٰهِ تَتَّقُوۡنَ ﴿۵۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে, তা তারই এবং সার্বক্ষণিক আনুগত্য তারই। অতএব তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ভয় করবে?

১৬:৫৩   وَ مَا بِكُمۡ مِّنۡ نِّعۡمَۃٍ فَمِنَ اللّٰهِ ثُمَّ اِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَاِلَیۡهِ تَجۡـَٔرُوۡنَ ﴿ۚ۵۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমাদের কাছ যে সব নিআমত আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর দুঃখ-দুর্দশা যখন তোমাদের স্পর্শ করে তখন তোমরা শুধু তার কাছেই ফরিয়াদ কর।

১৬:৫৪    ثُمَّ اِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنۡكُمۡ اِذَا فَرِیۡقٌ مِّنۡكُمۡ بِرَبِّهِمۡ یُشۡرِكُوۡنَ ﴿ۙ۵۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারপর যখন তিনি তোমাদের থেকে দুঃখ-দুর্দশা দূর করে দেন, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একটি দল তাদের রবের সাথে শিরক করে।

১৬:৫৫   لِیَكۡفُرُوۡا بِمَاۤ اٰتَیۡنٰهُمۡ ؕ فَتَمَتَّعُوۡا ۟ فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۵۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যাতে আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা তারা অস্বীকার করতে পারে। অতএব তোমরা ভোগ কর, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে।

১৬:৫৬ وَ یَجۡعَلُوۡنَ لِمَا لَا یَعۡلَمُوۡنَ نَصِیۡبًا مِّمَّا رَزَقۡنٰهُمۡ ؕ تَاللّٰهِ لَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا كُنۡتُمۡ تَفۡتَرُوۡنَ ﴿۵۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি, তার একটি অংশ তারা নির্ধারণ করে এমন সত্তার জন্য, যার ব্যাপারে তারা জানে না। আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।

১৬:৫৭   وَ یَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰهِ الۡبَنٰتِ سُبۡحٰنَهٗ ۙ وَ لَهُمۡ مَّا یَشۡتَهُوۡنَ ﴿۵۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তারা আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান নির্দিষ্ট করে। তিনি পবিত্র এবং নিজেদের জন্য তা (নির্দিষ্ট করে) যা তারা পছন্দ করে।

১৬:৫৮  وَ اِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمۡ بِالۡاُنۡثٰی ظَلَّ وَجۡهُهٗ مُسۡوَدًّا وَّ هُوَ كَظِیۡمٌ ﴿ۚ۵۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত।

১৬:৫৯  یَتَوَارٰی مِنَ الۡقَوۡمِ مِنۡ سُوۡٓءِ مَا بُشِّرَ بِهٖ ؕ اَیُمۡسِكُهٗ عَلٰی هُوۡنٍ اَمۡ یَدُسُّهٗ فِی التُّرَابِ ؕ اَلَا سَآءَ مَا یَحۡكُمُوۡنَ ﴿۵۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওম থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!

১৬:৬০  لِلَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ مَثَلُ السَّوۡءِ ۚ وَ لِلّٰهِ الۡمَثَلُ الۡاَعۡلٰی ؕ وَ هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَكِیۡمُ ﴿۶۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য মন্দ উদাহরণ এবং আল্লাহর জন্য রয়েছে মহান উদাহরণ। আর তিনিই পরাক্রমশালী, মহাজ্ঞানী।

১৬:৬১  وَ لَوۡ یُؤَاخِذُ اللّٰهُ النَّاسَ بِظُلۡمِهِمۡ مَّا تَرَكَ عَلَیۡهَا مِنۡ دَآبَّۃٍ وَّ لٰكِنۡ یُّؤَخِّرُهُمۡ اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ۚ فَاِذَا جَآءَ اَجَلُهُمۡ لَا یَسۡتَاۡخِرُوۡنَ سَاعَۃً وَّ لَا یَسۡتَقۡدِمُوۡنَ ﴿۶۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ যদি মানবজাতিকে তাদের যুলমের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে তাতে (যমীনে) কোনো বিচরণকারী প্রাণীকেই ছাড়তেন না। তবে আল্লাহ তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন। যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় চলে আসে, তখন এক মুহূর্তও পেছাতে পারে না, এবং আগাতেও পারে না।

১৬:৬২   وَ یَجۡعَلُوۡنَ لِلّٰهِ مَا یَكۡرَهُوۡنَ وَ تَصِفُ اَلۡسِنَتُهُمُ الۡكَذِبَ اَنَّ لَهُمُ الۡحُسۡنٰی ؕ لَا جَرَمَ اَنَّ لَهُمُ النَّارَ وَ اَنَّهُمۡ مُّفۡرَطُوۡنَ ﴿۶۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তারা যা অপছন্দ করে, তাই তারা আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে। তাদের জিহবা মিথ্যা বিবরণ দেয় যে, নিশ্চয় তাদের জন্য শুভ পরিণাম। সন্দেহ নেই যে, তাদের জন্য রয়েছে আগুন এবং নিশ্চয় তারা সর্বাগ্রে নিক্ষিপ্ত হবে।

১৬:৬৩  تَاللّٰهِ لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَاۤ اِلٰۤی اُمَمٍ مِّنۡ قَبۡلِكَ فَزَیَّنَ لَهُمُ الشَّیۡطٰنُ اَعۡمَالَهُمۡ فَهُوَ وَلِیُّهُمُ الۡیَوۡمَ وَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۶۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহর শপথ, আমি তোমার পূর্বে বহু জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছি। অতঃপর শয়তান তাদের জন্য তাদের কর্মকে শোভিত করেছে। তাই আজ সে তাদের অভিভাবক। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক আযাব।

১৬:৬৪  وَ مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡكَ الۡكِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِی اخۡتَلَفُوۡا فِیۡهِ ۙ وَ هُدًی وَّ رَحۡمَۃً لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ﴿۶۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, যে বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং (এটি) হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।

১৬:৬৫   وَ اللّٰهُ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَاَحۡیَا بِهِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِهَا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّسۡمَعُوۡنَ ﴿۶۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহ আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন এবং তদ্বারা তিনি ভূমিকে ওর মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে যে সম্প্রদায় কথা শোনে তাদের জন্য।

১৬:৬৬  وَ اِنَّ لَكُمۡ فِی الۡاَنۡعَامِ لَعِبۡرَۃً ؕ نُسۡقِیۡكُمۡ مِّمَّا فِیۡ بُطُوۡنِهٖ مِنۡۢ بَیۡنِ فَرۡثٍ وَّ دَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیۡنَ ﴿۶۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে তোমাদের জন্য শিক্ষা। তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদেরকে আমি দুধ পান করাই, যা খাঁটি এবং পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছ্যন্দকর।

১৬:৬৭  وَ مِنۡ ثَمَرٰتِ النَّخِیۡلِ وَ الۡاَعۡنَابِ تَتَّخِذُوۡنَ مِنۡهُ سَكَرًا وَّ رِزۡقًا حَسَنًا ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّعۡقِلُوۡنَ ﴿۶۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা খেজুর গাছের ফল ও আঙ্গুর থেকে মাদক* ও উত্তম রিয্ক গ্রহণ কর। নিশ্চয় এতে এমন কওমের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা বুঝে।

১৬:৬৮   وَ اَوۡحٰی رَبُّكَ اِلَی النَّحۡلِ اَنِ اتَّخِذِیۡ مِنَ الۡجِبَالِ بُیُوۡتًا وَّ مِنَ الشَّجَرِ وَ مِمَّا یَعۡرِشُوۡنَ ﴿ۙ۶۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমার রব মৌমাছিকে ইংগিতে জানিয়েছে যে, ‘তুমি পাহাড়ে ও গাছে এবং তারা যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে নিবাস বানাও।’

১৬:৬৯   ثُمَّ كُلِیۡ مِنۡ كُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسۡلُكِیۡ سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلًا ؕ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِهَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُهٗ فِیۡهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیَۃً لِّقَوۡمٍ یَّتَفَكَّرُوۡنَ ﴿۶۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতঃপর তুমি প্রত্যেক ফল থেকে আহার কর এবং তুমি তোমার রবের সহজ পথে চল। তার পেট থেকে এমন পানীয় বের হয়, যার রং ভিন্ন ভিন্ন, যাতে রয়েছে মানুষের জন্য রোগ নিরাময়। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।

১৬:৭০  وَ اللّٰهُ خَلَقَكُمۡ ثُمَّ یَتَوَفّٰىكُمۡ ۟ۙ وَ مِنۡكُمۡ مَّنۡ یُّرَدُّ اِلٰۤی اَرۡذَلِ الۡعُمُرِ لِكَیۡ لَا یَعۡلَمَ بَعۡدَ عِلۡمٍ شَیۡئًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیۡمٌ قَدِیۡرٌ ﴿۷۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। তোমাদের অনেকে এমনও আছে, যাকে একেবারে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত করা হয়, যাতে সে জ্ঞান লাভের পরেও সবকিছু অজানা হয়ে যায়। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।

১৬:৭১  وَ اللّٰهُ فَضَّلَ بَعۡضَكُمۡ عَلٰی بَعۡضٍ فِی الرِّزۡقِ ۚ فَمَا الَّذِیۡنَ فُضِّلُوۡا بِرَآدِّیۡ رِزۡقِهِمۡ عَلٰی مَا مَلَكَتۡ اَیۡمَانُهُمۡ فَهُمۡ فِیۡهِ سَوَآءٌ ؕ اَفَبِنِعۡمَۃِ اللّٰهِ یَجۡحَدُوۡنَ ﴿۷۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ রিয্ক তোমাদের কতককে কতকের উপর প্রাধান্য দিয়েছেন; কিন্তু যাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তারা তাদের রিয্ক দাসদাসীদের ফিরিয়ে দেয় না। (এই ভয়ে যে,) তারা তাতে সমান হয়ে যাবে। তবে তারা কি আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করছে?

১৬:৭২  وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِكُمۡ اَزۡوَاجًا وَّ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنۡ اَزۡوَاجِكُمۡ بَنِیۡنَ وَ حَفَدَۃً وَّ رَزَقَكُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ اَفَبِالۡبَاطِلِ یُؤۡمِنُوۡنَ وَ بِنِعۡمَتِ اللّٰهِ هُمۡ یَكۡفُرُوۡنَ ﴿ۙ۷۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও নাতিদের সৃষ্টি করেছেন আর তিনি তোমারেদকে পবিত্র রিয্ক দান করেছেন তারা কি বাতিলে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর নিআমতকে অস্বীকার করে?

১৬:৭৩  وَ یَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ مَا لَا یَمۡلِكُ لَهُمۡ رِزۡقًا مِّنَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ شَیۡئًا وَّ لَا یَسۡتَطِیۡعُوۡنَ ﴿ۚ۷۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর উপাসনা করে, যারা আসমানসমূহ ও যমীনে তাদের কোন রিযকের মালিক নয় এবং হতেও পারবে না।

১৬:৭৪   فَلَا تَضۡرِبُوۡا لِلّٰهِ الۡاَمۡثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۷۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য অন্য কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।

১৬:৭৫   ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا عَبۡدًا مَّمۡلُوۡكًا لَّا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّ مَنۡ رَّزَقۡنٰهُ مِنَّا رِزۡقًا حَسَنًا فَهُوَ یُنۡفِقُ مِنۡهُ سِرًّا وَّ جَهۡرًا ؕ هَلۡ یَسۡتَوٗنَ ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ ؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۷۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আল্লাহ উপমা পেশ করেছেন; একজন অধিনস্ত দাস যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না। আর একজন যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে উত্তম রিযক দিয়েছি, অতঃপর সে তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে। তারা কি সমান হতে পারে? সমস্ত প্রশংসা আল্লা্হর। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।

১৬:৭৬  وَ ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا رَّجُلَیۡنِ اَحَدُهُمَاۤ اَبۡكَمُ لَا یَقۡدِرُ عَلٰی شَیۡءٍ وَّ هُوَ كَلٌّ عَلٰی مَوۡلٰىهُ ۙ اَیۡنَمَا یُوَجِّهۡهُّ لَایَاۡتِ بِخَیۡرٍ ؕ هَلۡ یَسۡتَوِیۡ هُوَ ۙ وَ مَنۡ یَّاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ ۙ وَ هُوَ عَلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۷۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ উপমা পেশ করেছেন, দু’জন ব্যক্তি, তাদের একজন বোবা, যে কোন কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না এবং সে তার অভিভাবকের উপর বোঝা। তাকে যেখানেই পাঠানো হয়, কোন কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। সে আর ঐ ব্যক্তি কি সমান, যে ন্যায়ের আদেশ করে এবং রয়েছে সরল পথের উপর?

১৬:৭৭  وَ لِلّٰهِ غَیۡبُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ وَ مَاۤ اَمۡرُ السَّاعَۃِ اِلَّا كَلَمۡحِ الۡبَصَرِ اَوۡ هُوَ اَقۡرَبُ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۷۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আসমানসমূহ ও যমীনে গায়েবী বিষয় আল্লাহরই। আর কিয়ামতের ব্যাপারটি শুধু চোখের পলকের ন্যায়। কিংবা তা আরো নিকটবর্তী। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

১৬:৭৮  وَ اللّٰهُ اَخۡرَجَكُمۡ مِّنۡۢ بُطُوۡنِ اُمَّهٰتِكُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ شَیۡئًا ۙ وَّ جَعَلَ لَكُمُ السَّمۡعَ وَ الۡاَبۡصَارَ وَ الۡاَفۡـِٕدَۃَ ۙ لَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُوۡنَ ﴿۷۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ তোমাদেরকে বের করেছেন, তোমাদের মাতৃগর্ভ থেকে এমতাবস্থায় যে, তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন শ্রবণশক্তি, চক্ষু ও অন্তর। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।

১৬:৭৯  اَلَمۡ یَرَوۡا اِلَی الطَّیۡرِ مُسَخَّرٰتٍ فِیۡ جَوِّ السَّمَآءِ ؕ مَا یُمۡسِكُهُنَّ اِلَّا اللّٰهُ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ﴿۷۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা কি আকাশে (উড়ন্ত অবস্থায়) নিয়োজিত পাখিগুলোর দিকে তাকায় না? আল্লাহ ছাড়া কেউ তাদেরকে ধরে রাখে না। নিশ্চয় তাতে নিদর্শনবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা বিশ্বাস করে।

১৬:৮০  وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنۡۢ بُیُوۡتِكُمۡ سَكَنًا وَّ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنۡ جُلُوۡدِ الۡاَنۡعَامِ بُیُوۡتًا تَسۡتَخِفُّوۡنَهَا یَوۡمَ ظَعۡنِكُمۡ وَ یَوۡمَ اِقَامَتِكُمۡ ۙ وَ مِنۡ اَصۡوَافِهَا وَ اَوۡبَارِهَا وَ اَشۡعَارِهَاۤ اَثَاثًا وَّ مَتَاعًا اِلٰی حِیۡنٍ ﴿۸۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ তোমাদের ঘরগুলোকে তোমাদের জন্য আবাস করেছেন এবং তোমাদের পশুর চামড়া দিয়ে তাবুর ব্যবস্থা করেছেন, যা খুব সহজেই তোমরা সফরকালে ও অবস্থানকালে বহন করতে পার। আর তাদের পশম, তাদের লোম ও তাদের চুল দ্বারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গৃহসামগ্রী ও ভোগ-উপকরণ (তৈরি করেছেন)।

১৬:৮১   وَ اللّٰهُ جَعَلَ لَكُمۡ مِّمَّا خَلَقَ ظِلٰلًا وَّ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنَ الۡجِبَالِ اَكۡنَانًا وَّ جَعَلَ لَكُمۡ سَرَابِیۡلَ تَقِیۡكُمُ الۡحَرَّ وَ سَرَابِیۡلَ تَقِیۡكُمۡ بَاۡسَكُمۡ ؕ كَذٰلِكَ یُتِمُّ نِعۡمَتَهٗ عَلَیۡكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تُسۡلِمُوۡنَ ﴿۸۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং পাহাড় থেকে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন, আর ব্যবস্থা করেছেন পোশাকের, যা তোমাদেরকে গরম থেকে রক্ষা করে এবং বর্মেরও ব্যবস্থা করেছেন যা তোমাদেরকে রক্ষা করে তোমাদের যুদ্ধে। এভাবেই তিনি তোমাদের উপর তার নিআমতকে পূর্ণ করবেন, যাতে তোমরা অনুগত হও।

১৬:৮২    فَاِنۡ تَوَلَّوۡا فَاِنَّمَا عَلَیۡكَ الۡبَلٰغُ الۡمُبِیۡنُ ﴿۸۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং যদি তারা পৃষ্ঠ-প্রদর্শন করে, তবে তোমার দায়িত্ব তো শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।

১৬:৮৩   یَعۡرِفُوۡنَ نِعۡمَتَ اللّٰهِ ثُمَّ یُنۡكِرُوۡنَهَا وَ اَكۡثَرُهُمُ الۡكٰفِرُوۡنَ ﴿۸۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারা আল্লাহর নিআমত চিনে, তারপরও তারা তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশই কাফির।

১৬:৮৪ وَ یَوۡمَ نَبۡعَثُ مِنۡ كُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیۡدًا ثُمَّ لَا یُؤۡذَنُ لِلَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا وَ لَا هُمۡ یُسۡتَعۡتَبُوۡنَ ﴿۸۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মত থেকে সাক্ষী উত্থিত করব। তারপর যারা কুফরী করেছে, তাদেরকে (ওযর পেশের) অনুমতি দেয়া হবে না এবং (আল্লাহকে) সন্তুষ্ট করতেও তাদেরকে বলা হবে না।

১৬:৮৫  وَ اِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ ظَلَمُوا الۡعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنۡهُمۡ وَ لَا هُمۡ یُنۡظَرُوۡنَ ﴿۸۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা যুলম করেছে, তারা যখন আযাব দেখবে, তখন তাদের উপর থেকে তা শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।

১৬:৮৬   وَ اِذَا رَاَ الَّذِیۡنَ اَشۡرَكُوۡا شُرَكَآءَهُمۡ قَالُوۡا رَبَّنَا هٰۤؤُلَآءِ شُرَكَآؤُنَا الَّذِیۡنَ كُنَّا نَدۡعُوۡا مِنۡ دُوۡنِكَ ۚ فَاَلۡقَوۡا اِلَیۡهِمُ الۡقَوۡلَ اِنَّكُمۡ لَكٰذِبُوۡنَ ﴿ۚ۸۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা শিরক করেছে, তারা যখন তাদের শরীকদের দেখবে, তখন বলবে, ‘হে আমাদের রব, এরা হল আমাদের শরীক, যাদেরকে আমরা আপনার পরিবর্তে আহবান করতাম।’ অতঃপর তারা তাদের প্রতি উত্তরে বলবে, ‘নিশ্চয় তোমরা মিথ্যাবাদী।’

১৬:৮৭  وَ اَلۡقَوۡا اِلَی اللّٰهِ یَوۡمَئِذِۣ السَّلَمَ وَ ضَلَّ عَنۡهُمۡ مَّا كَانُوۡا یَفۡتَرُوۡنَ ﴿۸۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সেদিন তারা আল্লাহর প্রতি আনুগহ্য পেশ করবে এবং তারা যে মিথ্যা রটাত, তা উধাও হয়ে যাবে।

১৬:৮৮  اَلَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا وَ صَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ زِدۡنٰهُمۡ عَذَابًا فَوۡقَ الۡعَذَابِ بِمَا كَانُوۡا یُفۡسِدُوۡنَ ﴿۸۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহর রাস্তায় বাধা দিয়েছে, আমি তাদেরকে আযাবের উপর আযাব বাড়িয়ে দেব। কারণ তারা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করত।

১৬:৮৯  وَ یَوۡمَ نَبۡعَثُ فِیۡ كُلِّ اُمَّۃٍ شَهِیۡدًا عَلَیۡهِمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِهِمۡ وَ جِئۡنَا بِكَ شَهِیۡدًا عَلٰی هٰۤؤُلَآءِ ؕ وَ نَزَّلۡنَا عَلَیۡكَ الۡكِتٰبَ تِبۡیَانًا لِّكُلِّ شَیۡءٍ وَّ هُدًی وَّ رَحۡمَۃً وَّ بُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۸۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর স্মরণ কর, যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের কাছে, তাদের থেকেই তাদের বিরুদ্ধে একজন সাক্ষী উত্থিত করব এবং তোমাকে তাদের উপর সাক্ষীরূপে হাযির করব। আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।

১৬:৯০  اِنَّ اللّٰهَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَ الۡاِحۡسَانِ وَ اِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَ یَنۡهٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَ الۡمُنۡكَرِ وَ الۡبَغۡیِ ۚ یَعِظُكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَذَكَّرُوۡنَ ﴿۹۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফ, সদাচার ও নিকট আত্মীয়দের দান করার আদেশ দেন এবং তিনি আশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন। তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দেন, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।

১৬:৯১  وَ اَوۡفُوۡا بِعَهۡدِ اللّٰهِ اِذَا عٰهَدۡتُّمۡ وَ لَا تَنۡقُضُوا الۡاَیۡمَانَ بَعۡدَ تَوۡكِیۡدِهَا وَ قَدۡ جَعَلۡتُمُ اللّٰهَ عَلَیۡكُمۡ كَفِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعۡلَمُ مَا تَفۡعَلُوۡنَ ﴿۹۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃত পক্ষে তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর।

১৬:৯২  وَ لَا تَكُوۡنُوۡا كَالَّتِیۡ نَقَضَتۡ غَزۡلَهَا مِنۡۢ بَعۡدِ قُوَّۃٍ اَنۡكَاثًا ؕ تَتَّخِذُوۡنَ اَیۡمَانَكُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَكُمۡ اَنۡ تَكُوۡنَ اُمَّۃٌ هِیَ اَرۡبٰی مِنۡ اُمَّۃٍ ؕ اِنَّمَا یَبۡلُوۡكُمُ اللّٰهُ بِهٖ ؕ وَ لَیُبَیِّنَنَّ لَكُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ مَا كُنۡتُمۡ فِیۡهِ تَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۹۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা সে নারীর মত হয়ো না, যে তার পাকানো সূতো শক্ত করে পাকানোর পর টুকরো টুকরো করে ফেলে। তোমরা তোমাদের উপর অঙ্গীকারকে নিজদের মধ্যে প্রতারণা হিসেবে গ্রহণ করছ (এই উদ্দেশ্যে) যে, একদল অপর দলের চেয়ে বড় হবে। আল্লাহ তো এর মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করেন এবং নিশ্চয় তিনি তোমাদের জন্য কিয়ামতের দিনে স্পষ্ট করে দেবেন সে বিষয়, যাতে তোমরা মতবিরোধ করতে।

১৬:৯৩   وَ لَوۡ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمۡ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّ لٰكِنۡ یُّضِلُّ مَنۡ یَّشَآءُ وَ یَهۡدِیۡ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ لَتُسۡـَٔلُنَّ عَمَّا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ﴿۹۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তোমাদের সকলকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।

১৬:৯৪  وَ لَا تَتَّخِذُوۡۤا اَیۡمَانَكُمۡ دَخَلًۢا بَیۡنَكُمۡ فَتَزِلَّ قَدَمٌۢ بَعۡدَ ثُبُوۡتِهَا وَ تَذُوۡقُوا السُّوۡٓءَ بِمَا صَدَدۡتُّمۡ عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ ۚ وَ لَكُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ﴿۹۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা তোমাদের অঙ্গীকারগুলোকে তোমাদের প্রতারণা হিসেবে গ্রহণ করো না। তাহলে পা দৃঢ় হওয়ার পর পিছলে যাবে এবং তোমরা আযাব আস্বাদন করবে। কারণ তোমরা আল্লাহর রাস্তায় বাধা দিয়েছ। আর তোমাদের জন্য রয়েছে মহা আযাব।

১৬:৯৫  وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِعَهۡدِ اللّٰهِ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ؕ اِنَّمَا عِنۡدَ اللّٰهِ هُوَ خَیۡرٌ لَّكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۹۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমরা স্বল্প মূল্যে আল্লাহর অঙ্গীকার বিক্রি করো না। আল্লাহর কাছে যা আছে, তোমাদের জন্যই তাই উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

১৬:৯৬  مَا عِنۡدَكُمۡ یَنۡفَدُ وَ مَا عِنۡدَ اللّٰهِ بَاقٍ ؕ وَ لَنَجۡزِیَنَّ الَّذِیۡنَ صَبَرُوۡۤا اَجۡرَهُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۹۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তোমাদের নিকট যা আছে তা ফুরিয়ে যায়। আর আল্লাহর নিকট যা আছে তা স্থায়ী। আর যারা সবর করেছে, তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।

১৬:৯৭  مَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَكَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَ هُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَنُحۡیِیَنَّهٗ حَیٰوۃً طَیِّبَۃً ۚ وَ لَنَجۡزِیَنَّهُمۡ اَجۡرَهُمۡ بِاَحۡسَنِ مَا كَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ﴿۹۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।

১৬:৯৮  فَاِذَا قَرَاۡتَ الۡقُرۡاٰنَ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّیۡطٰنِ الرَّجِیۡمِ ﴿۹۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সুতরাং যখন তুমি কুরআন পড়বে তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে পানাহ চাও।

১৬:৯৯  اِنَّهٗ لَیۡسَ لَهٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَكَّلُوۡنَ ﴿۹۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা নেই।

১৬:১০০  اِنَّمَا سُلۡطٰنُهٗ عَلَی الَّذِیۡنَ یَتَوَلَّوۡنَهٗ وَ الَّذِیۡنَ هُمۡ بِهٖ مُشۡرِكُوۡنَ ﴿۱۰۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তার ক্ষমতা তো কেবল তাদের উপর, যারা তাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ কর এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে।

১৬:১০১  وَ اِذَا بَدَّلۡنَاۤ اٰیَۃً مَّكَانَ اٰیَۃٍ ۙ وَّ اللّٰهُ اَعۡلَمُ بِمَا یُنَزِّلُ قَالُوۡۤا اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُفۡتَرٍ ؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۱۰۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যখন আমি একটি আয়াতের স্থানে পরিবর্তন করে আরেকটি আয়াত দেই- আল্লাহ ভাল জানেন সে সম্পর্কে, যা তিনি নাযিল করেন- তখন তারা বলে, তুমি তো কেবল মিথ্যা রটনাকারী; রবং তাদের অধিকাংশই জানে না।

১৬:১০২  قُلۡ نَزَّلَهٗ رُوۡحُ الۡقُدُسِ مِنۡ رَّبِّكَ بِالۡحَقِّ لِیُـثَبِّتَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ هُدًی وَّ بُشۡرٰی لِلۡمُسۡلِمِیۡنَ ﴿۱۰۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

বল, রুহুল কুদস (জীবরীল) একে তোমার রবের পক্ষ হতে যথাযথভাবে নাযিল করেছেন। যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং হিদায়াত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।

১৬:১০৩  وَ لَقَدۡ نَعۡلَمُ اَنَّهُمۡ یَقُوۡلُوۡنَ اِنَّمَا یُعَلِّمُهٗ بَشَرٌ ؕ لِسَانُ الَّذِیۡ یُلۡحِدُوۡنَ اِلَیۡهِ اَعۡجَمِیٌّ وَّ هٰذَا لِسَانٌ عَرَبِیٌّ مُّبِیۡنٌ ﴿۱۰۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি অবশ্যই জানি যে, তারা বলে, তাকে তো শিক্ষা দেয় একজন মানুষ, যার দিকে তারা ঈঙ্গিত করছে, তার ভাষা হচ্ছে অনারবী। অথচ এটা হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষা।

১৬:১০৪  اِنَّ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۙ لَا یَهۡدِیۡهِمُ اللّٰهُ وَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱۰۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রদায়ক আযাব।

১৬:১০৫  اِنَّمَا یَفۡتَرِی الۡكَذِبَ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۚ وَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الۡكٰذِبُوۡنَ ﴿۱۰۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

একমাত্র তারাই মিথ্যা রটায়, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না। আর তারাই মিথ্যাবাদী।

১৬:১০৬  مَنۡ كَفَرَ بِاللّٰهِ مِنۡۢ بَعۡدِ اِیۡمَانِهٖۤ اِلَّا مَنۡ اُكۡرِهَ وَ قَلۡبُهٗ مُطۡمَئِنٌّۢ بِالۡاِیۡمَانِ وَ لٰكِنۡ مَّنۡ شَرَحَ بِالۡكُفۡرِ صَدۡرًا فَعَلَیۡهِمۡ غَضَبٌ مِّنَ اللّٰهِ ۚ وَ لَهُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ﴿۱۰۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

যে ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরী করেছে এবং যারা তাদের অন্তর কুফরী দ্বারা উন্মুক্ত করেছে, তাদের উপরই আল্লাহর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব। ঐ ব্যক্তি ছাড়া যাকে বাধ্য করা হয় (কুফরী করতে) অথচ তার অন্তর থাকে ঈমানে পরিতৃপ্ত।

১৬:১০৭  ذٰلِكَ بِاَنَّهُمُ اسۡتَحَبُّوا الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا عَلَی الۡاٰخِرَۃِ ۙ وَ اَنَّ اللّٰهَ لَا یَهۡدِی الۡقَوۡمَ الۡكٰفِرِیۡنَ ﴿۱۰۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এটা এ জন্য যে, তারা আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনকে পছন্দ করেছে। আর নিশ্চয় আল্লাহ কাফির কওমকে হিদায়াত করেন না।

১৬:১০৮  اُولٰٓئِكَ الَّذِیۡنَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوۡبِهِمۡ وَ سَمۡعِهِمۡ وَ اَبۡصَارِهِمۡ ۚ وَ اُولٰٓئِكَ هُمُ الۡغٰفِلُوۡنَ ﴿۱۰۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

এরাই তারা, যাদের অন্তরসমূহ, শ্রবণসমূহ ও দৃষ্টিসমূহের উপর আল্লাহ মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই হচ্ছে গাফেল।

১৬:১০৯  لَاجَرَمَ اَنَّهُمۡ فِی الۡاٰخِرَۃِ هُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ﴿۱۰۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সন্দেহ নেই, তারাই আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত।

১৬:১১০  ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیۡنَ هَاجَرُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ مَا فُتِنُوۡا ثُمَّ جٰهَدُوۡا وَ صَبَرُوۡۤا ۙ اِنَّ رَبَّكَ مِنۡۢ بَعۡدِهَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۱۰﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারপর তোমার রব তাদের জন্য, যারা বিপর্যস্ত হওয়ার পর হিজরত করেছে, অতঃপর জিহাদ করেছে এবং সবর করেছে, এ সবের পর তোমার রব অবশ্যই ক্ষমাশীল, দুয়ালু।

১৬:১১১   یَوۡمَ تَاۡتِیۡ كُلُّ نَفۡسٍ تُجَادِلُ عَنۡ نَّفۡسِهَا وَ تُوَفّٰی كُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ وَ هُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ﴿۱۱۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

(স্মরণ কর সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে ব্যক্তি সে যা আমল করেছে তা পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।

১৬:১১২  وَ ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا قَرۡیَۃً كَانَتۡ اٰمِنَۃً مُّطۡمَئِنَّۃً یَّاۡتِیۡهَا رِزۡقُهَا رَغَدًا مِّنۡ كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتۡ بِاَنۡعُمِ اللّٰهِ فَاَذَاقَهَا اللّٰهُ لِبَاسَ الۡجُوۡعِ وَ الۡخَوۡفِ بِمَا كَانُوۡا یَصۡنَعُوۡنَ ﴿۱۱۲﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আল্লাহ উপমা পেশ করছেন, একটি জনপদ, যা ছিল নিরাপদ ও শান্ত। সবদিক থেকে তার রিয্ক তাতে বিপুলভাবে আসত। অতঃপর সে (জনপদ) আল্লাহর নিআমত অস্বীকার করল। তখন তারা যা করত তার কারণে আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক পরালেন।

১৬:১১৩  وَ لَقَدۡ جَآءَهُمۡ رَسُوۡلٌ مِّنۡهُمۡ فَكَذَّبُوۡهُ فَاَخَذَهُمُ الۡعَذَابُ وَ هُمۡ ظٰلِمُوۡنَ ﴿۱۱۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর অবশ্যই তাদের কাছে, তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছিল। তারপর তারা তাকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আযাব তাদের পাকড়াও করেছিল এমতাবস্থায় যে, তারা ছিল যুলমকারী।

১৬:১১৪  فَكُلُوۡا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللّٰهُ حَلٰلًا طَیِّبًا ۪ وَّ اشۡكُرُوۡا نِعۡمَتَ اللّٰهِ اِنۡ كُنۡتُمۡ اِیَّاهُ تَعۡبُدُوۡنَ ﴿۱۱۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

অতএব আল্লাহ তোমাদেরকে যে হালাল উত্তম রিয্ক দিয়েছেন, তোমরা তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় কর, যদি তোমরা তারই ইবাদাত করে থাক।

১৬:১১৫   اِنَّمَا حَرَّمَ عَلَیۡكُمُ الۡمَیۡتَۃَ وَ الدَّمَ وَ لَحۡمَ الۡخِنۡزِیۡرِ وَ مَاۤ اُهِلَّ لِغَیۡرِ اللّٰهِ بِهٖ ۚ فَمَنِ اضۡطُرَّ غَیۡرَ بَاغٍ وَّ لَا عَادٍ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۱۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তিনি তো তোমাদের উপর হারাম করেছেন মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোশ্ত এবং যে জন্তুর যবেহকালে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নাম নেয়া হয়েছে। তবে যে নিরুপায় হয়ে, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ও সীমালঙ্ঘন ব্যতীত, (প্রয়োজন মুতাবেক গ্রহণ করবে) তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

১৬:১১৬  وَ لَا تَقُوۡلُوۡا لِمَا تَصِفُ اَلۡسِنَتُكُمُ الۡكَذِبَ هٰذَا حَلٰلٌ وَّ هٰذَا حَرَامٌ لِّتَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰهِ الۡكَذِبَ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَفۡتَرُوۡنَ عَلَی اللّٰهِ الۡكَذِبَ لَا یُفۡلِحُوۡنَ ﴿۱۱۶﴾ؕ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে, এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।

১৬:১১৭  مَتَاعٌ قَلِیۡلٌ ۪ وَّ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱۱۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সামান্য ভোগ এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

১৬:১১৮  وَ عَلَی الَّذِیۡنَ هَادُوۡا حَرَّمۡنَا مَا قَصَصۡنَا عَلَیۡكَ مِنۡ قَبۡلُ ۚ وَ مَا ظَلَمۡنٰهُمۡ وَ لٰكِنۡ كَانُوۡۤا اَنۡفُسَهُمۡ یَظۡلِمُوۡنَ ﴿۱۱۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যারা ইহূদী হয়েছে, তাদের উপরও আমি তাই হারাম করেছি, যা আমি তোমার কাছে ইতঃপূর্বে বর্ণনা করেছি এবং আমি তাদের উপর যুলম করিনি; বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করত।

১৬:১১৯  ثُمَّ اِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِیۡنَ عَمِلُوا السُّوۡٓءَ بِجَهَالَۃٍ ثُمَّ تَابُوۡا مِنۡۢ بَعۡدِ ذٰلِكَ وَ اَصۡلَحُوۡۤا ۙ اِنَّ رَبَّكَ مِنۡۢ بَعۡدِهَا لَغَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۱۹﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারপর নিশ্চয় তোমার রব তাদের জন্য, যারা অজ্ঞাতসারে মন্দ কাজ করেছে, এরপর তারা তওবা করেছে এবং পরিশুদ্ধ হয়েছে। নিশ্চয় তোমার রব এসবের পর পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

১৬:১২০  اِنَّ اِبۡرٰهِیۡمَ كَانَ اُمَّۃً قَانِتًا لِّلّٰهِ حَنِیۡفًا ؕ وَ لَمۡ یَكُ مِنَ الۡمُشۡرِكِیۡنَ ﴿۱۲۰﴾ۙ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় ইবরাহীম ছিলেন এক উম্মত*, আল্লাহর একান্ত অনুগত ও একনিষ্ঠ। তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।

১৬:১২১  شَاكِرًا لِّاَنۡعُمِهٖ ؕ اِجۡتَبٰهُ وَ هَدٰىهُ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۱۲۱﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

সে ছিল তার নিয়ামতের শুকরকারী। তিনি তাকে বাছাই করেছেন এবং তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।

১৬:১২২  وَ اٰتَیۡنٰهُ فِی الدُّنۡیَا حَسَنَۃً ؕ وَ اِنَّهٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیۡنَ ﴿۱۲۲﴾ؕ

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি এবং নিঃসন্দেহে সে আখিরাতে নেককারদের দলভুক্ত।

১৬:১২৩  ثُمَّ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡكَ اَنِ اتَّبِعۡ مِلَّۃَ اِبۡرٰهِیۡمَ حَنِیۡفًا ؕ وَ مَا كَانَ مِنَ الۡمُشۡرِكِیۡنَ ﴿۱۲۳﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তারপর আমি তোমার প্রতি ওহী পঠিয়েছি যে, তুমি মিল্লাতে ইবরাহীমের অনুসরণ কর, যে ছিল একনিষ্ঠ এবং ছিল না মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।

১৬:১২৪  اِنَّمَا جُعِلَ السَّبۡتُ عَلَی الَّذِیۡنَ اخۡتَلَفُوۡا فِیۡهِ ؕ وَ اِنَّ رَبَّكَ لَیَحۡكُمُ بَیۡنَهُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ فِیۡمَا كَانُوۡا فِیۡهِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ﴿۱۲۴﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

শনিবার তো তাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে যারা তাতে মতবিরোধ করেছে। আর নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন, যাতে তারা মতভেদ করত।

১৬:১২৫  اُدۡعُ اِلٰی سَبِیۡلِ رَبِّكَ بِالۡحِكۡمَۃِ وَ الۡمَوۡعِظَۃِ الۡحَسَنَۃِ وَ جَادِلۡهُمۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ ؕ اِنَّ رَبَّكَ هُوَ اَعۡلَمُ بِمَنۡ ضَلَّ عَنۡ سَبِیۡلِهٖ وَ هُوَ اَعۡلَمُ بِالۡمُهۡتَدِیۡنَ ﴿۱۲۵﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

তুমি তোমরা রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহবান কর এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে বিতর্ক কর। নিশ্চয় একমাত্র তোমার রবই জানেন কে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের তিনি খুব ভাল করেই জানেন।

১৬:১২৬  وَ اِنۡ عَاقَبۡتُمۡ فَعَاقِبُوۡا بِمِثۡلِ مَا عُوۡقِبۡتُمۡ بِهٖ ؕ وَ لَئِنۡ صَبَرۡتُمۡ لَهُوَ خَیۡرٌ لِّلصّٰبِرِیۡنَ ﴿۱۲۶﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর যদি তোমরা শাস্তি দাও, তবে ঠিক ততটুকু শাস্তি দাও যতটুকু তোমাদের দেয়া হয়েছে। আর যদি তোমরা সবর কর, তবে তাই সবরকারীদের জন্য উত্তম।

১৬:১২৭  وَ اصۡبِرۡ وَ مَا صَبۡرُكَ اِلَّا بِاللّٰهِ وَ لَا تَحۡزَنۡ عَلَیۡهِمۡ وَ لَا تَكُ فِیۡ ضَیۡقٍ مِّمَّا یَمۡكُرُوۡنَ ﴿۱۲۷﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

আর তুমি সবর কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফীকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না।

১৬:১২৮   اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا وَّ الَّذِیۡنَ هُمۡ مُّحۡسِنُوۡنَ ﴿۱۲۸﴾

بسم الله الرحمن الرحیم ۱

নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।

Skip to toolbar