بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾
![]()
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
২০:১ طٰهٰ ۚ﴿۱﴾
![]()
ত্ব-হা
২০:২ مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡكَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰۤی ۙ﴿۲﴾
![]()
আমি তোমার প্রতি আল-কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি দুর্ভোগ পোহাবে
২০:৩ اِلَّا تَذۡكِرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ۙ﴿۳﴾
![]()
বরং যে ভয় করে তার জন্য উপদেশ স্বরূপ।
২০:৪ تَنۡزِیۡلًا مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَ السَّمٰوٰتِ الۡعُلٰی ؕ﴿۴﴾
![]()
যিনি যমীন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট থেকে অবতীর্ণ।
২০:৫ اَلرَّحۡمٰنُ عَلَی الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰی ﴿۵﴾
![]()
পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন* ।
২০:৬ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ وَ مَا بَیۡنَهُمَا وَ مَا تَحۡتَ الثَّرٰی ﴿۶﴾

যা আছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং যা আছে মাটির নিচে সব তাঁরই।
২০:৭ وَ اِنۡ تَجۡهَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّهٗ یَعۡلَمُ السِّرَّ وَ اَخۡفٰی ﴿۷﴾
![]()
আর যদি তুমি উচ্চস্বরে কথা বল তবে তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন।
২০:৮ اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ لَهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰی ﴿۸﴾
![]()
আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই।
২০:৯ وَ هَلۡ اَتٰىكَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ۘ﴿۹﴾
![]()
আর তোমার কাছে কি মূসার কথা পৌঁছেছে?
২০:১০ اِذۡ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهۡلِهِ امۡكُثُوۡۤا اِنِّیۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّیۡۤ اٰتِیۡكُمۡ مِّنۡهَا بِقَبَسٍ اَوۡ اَجِدُ عَلَی النَّارِ هُدًی ﴿۱۰﴾

যখন সে আগুন দেখল, তখন নিজ পরিবারকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, আশা করি আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত আঙ্গার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের নিকট পথনির্দেশ পাব।’
২০:১১ فَلَمَّاۤ اَتٰىهَا نُوۡدِیَ یٰمُوۡسٰی ﴿ؕ۱۱﴾
![]()
যখন সে আগুনের কাছে আসল তখন তাকে আহবান করা হল, ‘হে মূসা’
২০:১২ اِنِّیۡۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخۡلَعۡ نَعۡلَیۡكَ ۚ اِنَّكَ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ﴿ؕ۱۲﴾

নিশ্চয় আমি তোমার রব; সুতরাং তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেল, নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ’।
২০:১৩ وَ اَنَا اخۡتَرۡتُكَ فَاسۡتَمِعۡ لِمَا یُوۡحٰی ﴿۱۳﴾
![]()
‘আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা ওহীরূপে পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুন’।
২০:১৪ اِنَّنِیۡۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدۡنِیۡ ۙ وَ اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِذِكۡرِیۡ ﴿۱۴﴾

‘নিশ্চয় আমি আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’।
২০:১৫ اِنَّ السَّاعَۃَ اٰتِیَۃٌ اَكَادُ اُخۡفِیۡهَا لِتُجۡزٰی كُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا تَسۡعٰی ﴿۱۵﴾

‘নিশ্চয় কিয়ামত আসবে; আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেককে স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়’।
২০:১৬ فَلَا یَصُدَّنَّكَ عَنۡهَا مَنۡ لَّا یُؤۡمِنُ بِهَا وَ اتَّبَعَ هَوٰىهُ فَتَرۡدٰی ﴿۱۶﴾

অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতি ঈমান রাখে না এবং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে যেন কিছুতেই তাতে ঈমান আনয়নে তোমাকে বাধা দিতে না পারে; অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
২০:১৭ وَ مَا تِلۡكَ بِیَمِیۡنِكَ یٰمُوۡسٰی ﴿۱۷﴾
![]()
আর ‘হে মূসা, তোমার ডান হাতে ওটা কি’?
২০:১৮ قَالَ هِیَ عَصَایَ ۚ اَتَوَكَّوٴُا عَلَیۡهَا وَ اَهُشُّ بِهَا عَلٰی غَنَمِیۡ وَ لِیَ فِیۡهَا مَاٰرِبُ اُخۡرٰی ﴿۱۸﴾

সে বলল, ‘এটি আমার লাঠি; আমি এর ওপর ভর করি, এটি দিয়ে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি এবং এটি আমার আরো অনেক কাজে লাগে।’
২০:১৯ قَالَ اَلۡقِهَا یٰمُوۡسٰی ﴿۱۹﴾
![]()
তিনি বললেন, ‘হে মূসা! ওটা ফেলে দাও।’
২০:২০ فَاَلۡقٰهَا فَاِذَا هِیَ حَیَّۃٌ تَسۡعٰی ﴿۲۰﴾
![]()
অতঃপর সে তা ফেলে দিল; অমনি তা সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।
২০:২১ قَالَ خُذۡهَا وَ لَا تَخَفۡ ٝ سَنُعِیۡدُهَا سِیۡرَتَهَا الۡاُوۡلٰی ﴿۲۱﴾
![]()
তিনি বললেন, ‘ওটা ধর এবং ভয় করো না, আমি ওকে ওর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব’।
২০:২২ وَ اضۡمُمۡ یَدَكَ اِلٰی جَنَاحِكَ تَخۡرُجۡ بَیۡضَآءَ مِنۡ غَیۡرِ سُوۡٓءٍ اٰیَۃً اُخۡرٰی ﴿ۙ۲۲﴾

‘আর তোমার হাত তোমার বগলের সাথে মিলাও, তাহলে তা উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনরূপ ত্রুটি ছাড়া; আরেকটি নিদর্শনরূপে’।
২০:২৩ لِنُرِیَكَ مِنۡ اٰیٰتِنَا الۡكُبۡرٰی ﴿ۚ۲۳﴾
![]()
এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নিদর্শনসমূহের কিছু দেখাব।
২০:২৪ اِذۡهَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰی ﴿۲۴﴾
![]()
‘ফির‘আউনের কাছে যাও; নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘন করেছে’।
২০:২৫ قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِیۡ صَدۡرِیۡ ﴿ۙ۲۵﴾
![]()
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন’
২০:২৬ وَ یَسِّرۡ لِیۡۤ اَمۡرِیۡ ﴿ۙ۲۶﴾
![]()
‘এবং আমার কাজ সহজ করে দিন,
২০:২৭ وَ احۡلُلۡ عُقۡدَۃً مِّنۡ لِّسَانِیۡ ﴿ۙ۲۷﴾
![]()
‘আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন-
২০:২৮ یَفۡقَهُوۡا قَوۡلِیۡ ﴿۪۲۸﴾
![]()
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে’।
২০:২৯ وَ اجۡعَلۡ لِّیۡ وَزِیۡرًا مِّنۡ اَهۡلِیۡ ﴿ۙ۲۹﴾
![]()
‘আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।
২০:৩০ هٰرُوۡنَ اَخِی ﴿ۙ۳۰﴾
![]()
আমার ভাই হারূনকে’
২০:৩১ اشۡدُدۡ بِهٖۤ اَزۡرِیۡ ﴿ۙ۳۱﴾
![]()
‘তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন
২০:৩২ وَ اَشۡرِكۡهُ فِیۡۤ اَمۡرِیۡ ﴿ۙ۳۲﴾
![]()
এবং তাকে আমার কাজে শরীক করুন’।
২০:৩৩ كَیۡ نُسَبِّحَكَ كَثِیۡرًا ﴿ۙ۳۳﴾
![]()
‘যাতে আমরা বেশী করে আপনার তাসবীহ পাঠ করতে পারি’,
২০:৩৪ وَّ نَذۡكُرَكَ كَثِیۡرًا ﴿ؕ۳۴﴾
![]()
এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
২০:৩৫ اِنَّكَ كُنۡتَ بِنَا بَصِیۡرًا ﴿۳۵﴾
![]()
‘আপনিই তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা’।
২০:৩৬ قَالَ قَدۡ اُوۡتِیۡتَ سُؤۡلَكَ یٰمُوۡسٰی ﴿۳۶﴾
![]()
তিনি বললেন, ‘হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল’।
২০:৩৭ وَ لَقَدۡ مَنَنَّا عَلَیۡكَ مَرَّۃً اُخۡرٰۤی ﴿ۙ۳۷﴾
![]()
‘আর আমি আরো একবার তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম’।
২০:৩৮ اِذۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰۤی اُمِّكَ مَا یُوۡحٰۤی ﴿ۙ۳۸﴾
![]()
‘যখন আমি তোমার মাতাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যা জানাবার ছিল,
২০:৩৯ اَنِ اقۡذِفِیۡهِ فِی التَّابُوۡتِ فَاقۡذِفِیۡهِ فِی الۡیَمِّ فَلۡیُلۡقِهِ الۡیَمُّ بِالسَّاحِلِ یَاۡخُذۡهُ عَدُوٌّ لِّیۡ وَ عَدُوٌّ لَّهٗ ؕ وَ اَلۡقَیۡتُ عَلَیۡكَ مَحَبَّۃً مِّنِّیۡ ۬ۚ وَ لِتُصۡنَعَ عَلٰی عَیۡنِیۡ ﴿ۘ۳۹﴾

‘যে, তুমি তাঁকে সিন্ধুকের মধ্যে রেখে দাও। তারপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও। যেন দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। ফলে তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু নিয়ে নেবে। আর আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও’।
২০:৪০ اِذۡ تَمۡشِیۡۤ اُخۡتُكَ فَتَقُوۡلُ هَلۡ اَدُلُّكُمۡ عَلٰی مَنۡ یَّكۡفُلُهٗ ؕ فَرَجَعۡنٰكَ اِلٰۤی اُمِّكَ كَیۡ تَقَرَّ عَیۡنُهَا وَ لَا تَحۡزَنَ ۬ؕ وَ قَتَلۡتَ نَفۡسًا فَنَجَّیۡنٰكَ مِنَ الۡغَمِّ وَ فَتَنّٰكَ فُتُوۡنًا ۬۟ فَلَبِثۡتَ سِنِیۡنَ فِیۡۤ اَهۡلِ مَدۡیَنَ ۬ۙ ثُمَّ جِئۡتَ عَلٰی قَدَرٍ یّٰمُوۡسٰی ﴿۴۰﴾

যখন তোমার বোন (সিন্দুকের সাথে সাথে) চলছিল। অতঃপর সে গিয়ে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব, যে এর দায়িত্বভার নিতে পারবে’? অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম; যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে। তখন আমি তোমাকে মানোবেদনা থেকে মুক্তি দিলাম এবং তোমাকে আমি বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে অবস্থান করেছ। হে মূসা, তারপর নির্ধারিত সময়ে তুমি এসে উপস্থিত হলে’।
২০:৪১ وَ اصۡطَنَعۡتُكَ لِنَفۡسِیۡ ﴿ۚ۴۱﴾
![]()
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য মনোনীত করেছি।
২০:৪২ اِذۡهَبۡ اَنۡتَ وَ اَخُوۡكَ بِاٰیٰتِیۡ وَ لَا تَنِیَا فِیۡ ذِكۡرِیۡ ﴿ۚ۴۲﴾
![]()
তুমি ও তোমার ভাই আমার আয়াতসমূহ নিয়ে যাও এবং আমাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে কোনরূপ অলসতা করো না।
২০:৪৩ اِذۡهَبَاۤ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰی ﴿ۚۖ۴۳﴾
![]()
তোমরা দু’জন ফির‘আউনের নিকট যাও, কেননা সে তো সীমালংঘন করেছে।
২০:৪৪ فَقُوۡلَا لَهٗ قَوۡلًا لَّیِّنًا لَّعَلَّهٗ یَتَذَكَّرُ اَوۡ یَخۡشٰی ﴿۴۴﴾
![]()
তোমরা তার সাথে নরম কথা বলবে। হয়তোবা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।
২০:৪৫ قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ یَّفۡرُطَ عَلَیۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ یَّطۡغٰی ﴿۴۵﴾
![]()
তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমরা তো আশংকা করছি যে, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা সীমালঙ্ঘন করবে’।
২০:৪৬ قَالَ لَا تَخَافَاۤ اِنَّنِیۡ مَعَكُمَاۤ اَسۡمَعُ وَ اَرٰی ﴿۴۶﴾
![]()
তিনি বললেন, ‘তোমরা ভয় করো না। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি। আমি সবকিছু শুনি ও দেখি’।
২০:৪৭ فَاۡتِیٰهُ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلَا رَبِّكَ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ ۬ۙ وَ لَا تُعَذِّبۡهُمۡ ؕ قَدۡ جِئۡنٰكَ بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّكَ ؕ وَ السَّلٰمُ عَلٰی مَنِ اتَّبَعَ الۡهُدٰی ﴿۴۷﴾

সুতরাং তোমরা দু’জন তার কাছে যাও অতঃপর বল, ‘আমরা তোমার রবের দু’জন রাসূল। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং তাদেরকে নির্যাতন করো না। আমরা তোমার কাছে এসেছি তোমার রবের আয়াত নিয়ে। আর যারা সৎ পথ অনুসরণ করে, তাদের প্রতি শান্তি’।
২০:৪৮ اِنَّا قَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡنَاۤ اَنَّ الۡعَذَابَ عَلٰی مَنۡ كَذَّبَ وَ تَوَلّٰی ﴿۴۸﴾

নিশ্চয় আমাদের নিকট ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, আযাবতো তার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।
২০:৪৯ قَالَ فَمَنۡ رَّبُّكُمَا یٰمُوۡسٰی ﴿۴۹﴾
![]()
ফির‘আউন বলল, ‘হে মূসা, তাহলে কে তোমাদের রব’?
২০:৫০ قَالَ رَبُّنَا الَّذِیۡۤ اَعۡطٰی كُلَّ شَیۡءٍ خَلۡقَهٗ ثُمَّ هَدٰی ﴿۵۰﴾
![]()
মূসা বলল, ‘আমাদের রব তিনি, যিনি সকল বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন’।
২০:৫১ قَالَ فَمَا بَالُ الۡقُرُوۡنِ الۡاُوۡلٰی ﴿۵۱﴾
![]()
ফির‘আউন বলল, ‘তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী’?
২০:৫২ قَالَ عِلۡمُهَا عِنۡدَ رَبِّیۡ فِیۡ كِتٰبٍ ۚ لَا یَضِلُّ رَبِّیۡ وَ لَا یَنۡسَی ﴿۫۵۲﴾

মূসা বলল, ‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না’।
২০:৫৩ الَّذِیۡ جَعَلَ لَكُمُ الۡاَرۡضَ مَهۡدًا وَّ سَلَكَ لَكُمۡ فِیۡهَا سُبُلًا وَّ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً ؕ فَاَخۡرَجۡنَا بِهٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡ نَّبَاتٍ شَتّٰی ﴿۵۳﴾

‘যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য চলার পথ করে দিয়েছেন। আর আসমান থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেন’; অতঃপর তা দিয়ে আমি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।
২০:৫৪ كُلُوۡا وَ ارۡعَوۡا اَنۡعَامَكُمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی ﴿۵۴﴾
![]()
তোমরা নিজেরা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশু চরাও। অবশ্যই এতে বিবেকসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
২০:৫৫ مِنۡهَا خَلَقۡنٰكُمۡ وَ فِیۡهَا نُعِیۡدُكُمۡ وَ مِنۡهَا نُخۡرِجُكُمۡ تَارَۃً اُخۡرٰی ﴿۵۵﴾
![]()
মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব।
২০:৫৬ وَ لَقَدۡ اَرَیۡنٰهُ اٰیٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَ اَبٰی ﴿۵۶﴾
![]()
আমি তাকে আমার সকল নিদর্শন দেখিয়েছিলাম, কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে।
২০:৫৭ قَالَ اَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ اَرۡضِنَا بِسِحۡرِكَ یٰمُوۡسٰی ﴿۵۷﴾
![]()
সে বলল, ‘হে মূসা, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, তোমার যাদুর দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবে’?
২০:৫৮ فَلَنَاۡتِیَنَّكَ بِسِحۡرٍ مِّثۡلِهٖ فَاجۡعَلۡ بَیۡنَنَا وَ بَیۡنَكَ مَوۡعِدًا لَّا نُخۡلِفُهٗ نَحۡنُ وَ لَاۤ اَنۡتَ مَكَانًا سُوًی ﴿۵۸﴾

‘তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু নিয়ে আসব। সুতরাং একটা মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের ও তোমার মিলিত হওয়ার জন্য একটি সময় নির্ধারণ কর, যা আমরাও লঙ্ঘন করব না, তুমিও করবে না’।
২০:৫৯ قَالَ مَوۡعِدُكُمۡ یَوۡمُ الزِّیۡنَۃِ وَ اَنۡ یُّحۡشَرَ النَّاسُ ضُحًی ﴿۵۹﴾
![]()
মূসা বলল, ‘তোমাদের নির্ধারিত সময় হল উৎসবের দিন। আর সেদিন পূর্বাহ্নেই যেন লোকজনকে সমবেত করা হয়’।
২০:৬০ فَتَوَلّٰی فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ كَیۡدَهٗ ثُمَّ اَتٰی ﴿۶۰﴾
![]()
অতঃপর ফির‘আউন উঠে গেল। তারপর সে তার কৌশল একত্র করল, তারপর সে আসল।
২০:৬১ قَالَ لَهُمۡ مُّوۡسٰی وَیۡلَكُمۡ لَا تَفۡتَرُوۡا عَلَی اللّٰهِ كَذِبًا فَیُسۡحِتَكُمۡ بِعَذَابٍ ۚ وَ قَدۡ خَابَ مَنِ افۡتَرٰی ﴿۶۱﴾

মূসা তাদেরকে বলল, ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। করলে তিনি আযাব দ্বারা তোমাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়।
২০:৬২ فَتَنَازَعُوۡۤا اَمۡرَهُمۡ بَیۡنَهُمۡ وَ اَسَرُّوا النَّجۡوٰی ﴿۶۲﴾
![]()
তখন তারা নিজদের মধ্যে তাদের কর্ম সম্বন্ধে বাক-বিতন্ডা করল এবং তারা গোপনে পরামর্শ করল।
২০:৬৩ قَالُوۡۤا اِنۡ هٰذٰىنِ لَسٰحِرٰنِ یُرِیۡدٰنِ اَنۡ یُّخۡرِجٰكُمۡ مِّنۡ اَرۡضِكُمۡ بِسِحۡرِهِمَا وَ یَذۡهَبَا بِطَرِیۡقَتِكُمُ الۡمُثۡلٰی ﴿۶۳﴾

তারা বলল, ‘এ দু’জন অবশ্যই যাদুকর। তারা চায় তাদের যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে’।
২০:৬৪ فَاَجۡمِعُوۡا كَیۡدَكُمۡ ثُمَّ ائۡتُوۡا صَفًّا ۚ وَ قَدۡ اَفۡلَحَ الۡیَوۡمَ مَنِ اسۡتَعۡلٰی ﴿۶۴﴾

‘কাজেই তোমরা তোমাদের কলা-কৌশল জমা কর। তারপর তোমরা সবাই সারিবদ্ধভাবে আস। আর আজ যে বিজয়ী হবে, সে-ই সফল হবে’।
২০:৬৫ قَالُوۡا یٰمُوۡسٰۤی اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِیَ وَ اِمَّاۤ اَنۡ نَّكُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَلۡقٰی ﴿۶۵﴾
![]()
তারা বলল, হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি।
২০:৬৬ قَالَ بَلۡ اَلۡقُوۡا ۚ فَاِذَا حِبَالُهُمۡ وَ عِصِیُّهُمۡ یُخَیَّلُ اِلَیۡهِ مِنۡ سِحۡرِهِمۡ اَنَّهَا تَسۡعٰی ﴿۶۶﴾

মূসা বলল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর তাদের যাদুর প্রভাবে মূসার কাছে মনে হল যেন তাদের রশি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে।
২০:৬৭ فَاَوۡجَسَ فِیۡ نَفۡسِهٖ خِیۡفَۃً مُّوۡسٰی ﴿۶۷﴾
![]()
তখন মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করল।
২০:৬৮ قُلۡنَا لَا تَخَفۡ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡاَعۡلٰی ﴿۶۸﴾
![]()
আমি বললাম, ‘তুমি ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে’।
২০:৬৯ وَ اَلۡقِ مَا فِیۡ یَمِیۡنِكَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوۡا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوۡا كَیۡدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفۡلِحُ السَّاحِرُ حَیۡثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾

‘আর তোমার ডান হাতে যা আছে, তা ফেলে দাও। তারা যা করেছে, এটা সেগুলো গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে, তাতো কেবল যাদুকরের কৌশল। আর যাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না’।
২০:৭০ فَاُلۡقِیَ السَّحَرَۃُ سُجَّدًا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوۡنَ وَ مُوۡسٰی ﴿۷۰﴾
![]()
অতঃপর যাদুকরেরা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম’।
২০:৭১ قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَهٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَكُمۡ ؕ اِنَّهٗ لَكَبِیۡرُكُمُ الَّذِیۡ عَلَّمَكُمُ السِّحۡرَ ۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَیۡدِیَكُمۡ وَ اَرۡجُلَكُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّ لَاُصَلِّبَنَّكُمۡ فِیۡ جُذُوۡعِ النَّخۡلِ ۫ وَ لَتَعۡلَمُنَّ اَیُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّ اَبۡقٰی ﴿۷۱﴾

ফির‘আউন বলল, ‘কী, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে-ই তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কান্ডে শূলিবিদ্ধ করবই। আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে, আমাদের মধ্যে কার আযাব বেশী কঠোর এবং বেশী স্থায়ী।
২০:৭২ قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡثِرَكَ عَلٰی مَا جَآءَنَا مِنَ الۡبَیِّنٰتِ وَ الَّذِیۡ فَطَرَنَا فَاقۡضِ مَاۤ اَنۡتَ قَاضٍ ؕ اِنَّمَا تَقۡضِیۡ هٰذِهِ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ﴿ؕ۷۲﴾

তারা বলল, ‘আমাদের নিকট যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দেব না। সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমিতো কেবল এ দুনিয়ার জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার’।
২০:৭৩ اِنَّـاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِیَغۡفِرَ لَنَا خَطٰیٰنَا وَ مَاۤ اَكۡرَهۡتَنَا عَلَیۡهِ مِنَ السِّحۡرِ ؕ وَ اللّٰهُ خَیۡرٌ وَّ اَبۡقٰی ﴿۷۳﴾

‘নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং যে যাদু তুমি আমাদেরকে করতে বাধ্য করেছ, তা ক্ষমা করে দেন। আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী’।
২০:৭৪ اِنَّهٗ مَنۡ یَّاۡتِ رَبَّهٗ مُجۡرِمًا فَاِنَّ لَهٗ جَهَنَّمَ ؕ لَا یَمُوۡتُ فِیۡهَا وَ لَا یَحۡیٰی ﴿۷۴﴾

যে তার রবের নিকট অপরাধী অবস্থায় আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
২০:৭৫ وَ مَنۡ یَّاۡتِهٖ مُؤۡمِنًا قَدۡ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓئِكَ لَهُمُ الدَّرَجٰتُ الۡعُلٰی ﴿ۙ۷۵﴾

আর যারা তাঁর নিকট আসবে মুমিন অবস্থায়, সৎকর্ম করে তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।
২০:৭৬ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ وَ ذٰلِكَ جَزٰٓؤُا مَنۡ تَزَكّٰی ﴿۷۶﴾

স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর এটা হল যারা পরিশুদ্ধ হয় তাদের পুরষ্কার।
২০:৭৭ وَ لَقَدۡ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلٰی مُوۡسٰۤی ۬ۙ اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِیۡ فَاضۡرِبۡ لَهُمۡ طَرِیۡقًا فِی الۡبَحۡرِ یَبَسًا ۙ لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّ لَا تَخۡشٰی ﴿۷۷﴾

আর আমি অবশ্যই মূসার কাছে ওহী প্রেরণ করেছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলায় রওয়ানা হও। অতঃপর সজোরে আঘাত করে তাদের জন্য শুকনো রাস্তা বানাও। পেছন থেকে ধরে ফেলার আশংকা করো না এবং ভয়ও করো না’।
২০:৭৮ فَاَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُوۡدِهٖ فَغَشِیَهُمۡ مِّنَ الۡیَمِّ مَا غَشِیَهُمۡ ﴿ؕ۷۸﴾

তারপর ফির‘আউন তার সেনাবাহিনী সহ তাদের পিছু নিল। অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল।
২০:৭৯ وَ اَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَهٗ وَ مَا هَدٰی ﴿۷۹﴾
![]()
আর ফির‘আউন তার কওমকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সে সঠিক পথ দেখায়নি।
২০:৮০ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ قَدۡ اَنۡجَیۡنٰكُمۡ مِّنۡ عَدُوِّكُمۡ وَ وٰعَدۡنٰكُمۡ جَانِبَ الطُّوۡرِ الۡاَیۡمَنَ وَ نَزَّلۡنَا عَلَیۡكُمُ الۡمَنَّ وَ السَّلۡوٰی ﴿۸۰﴾

হে বনী ইসরাঈল, আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের* এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’।
২০:৮১ كُلُوۡا مِنۡ طَیِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰكُمۡ وَ لَا تَطۡغَوۡا فِیۡهِ فَیَحِلَّ عَلَیۡكُمۡ غَضَبِیۡ ۚ وَ مَنۡ یَّحۡلِلۡ عَلَیۡهِ غَضَبِیۡ فَقَدۡ هَوٰی ﴿۸۱﴾

আমি তোমাদেরকে যে রিয্ক দান করেছি তা থেকে ভালগুলো খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না। করলে তোমাদের উপর আমার গযব পতিত হবে। আর যার উপর আমার গযব পতিত হয় সে অবশ্যই ধ্বংস হয়।
২০:৮২ وَ اِنِّیۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهۡتَدٰی ﴿۸۲﴾

আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।
২০:৮৩ وَ مَاۤ اَعۡجَلَكَ عَنۡ قَوۡمِكَ یٰمُوۡسٰی ﴿۸۳﴾
![]()
হে মূসা, কিসে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসেছে তোমাকে, তোমার কওমকে পেছনে ফেলে?
২০:৮৪ قَالَ هُمۡ اُولَآءِ عَلٰۤی اَثَرِیۡ وَ عَجِلۡتُ اِلَیۡكَ رَبِّ لِتَرۡضٰی ﴿۸۴﴾
![]()
মূসা বলল, ‘এই তো তারা আমার পিছনে। হে আমার রব, আমি তাড়াতাড়ি করে আপনার নিকট এসেছি, যাতে আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট হন’।
২০:৮৫ قَالَ فَاِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَكَ مِنۡۢ بَعۡدِكَ وَ اَضَلَّهُمُ السَّامِرِیُّ ﴿۸۵﴾

আল্লাহ বললেন, ‘তোমার চলে আসার পর আমি তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি। আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে’।
২০:৮৬ فَرَجَعَ مُوۡسٰۤی اِلٰی قَوۡمِهٖ غَضۡبَانَ اَسِفًا ۬ۚ قَالَ یٰقَوۡمِ اَلَمۡ یَعِدۡكُمۡ رَبُّكُمۡ وَعۡدًا حَسَنًا ۬ؕ اَفَطَالَ عَلَیۡكُمُ الۡعَهۡدُ اَمۡ اَرَدۡتُّمۡ اَنۡ یَّحِلَّ عَلَیۡكُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ فَاَخۡلَفۡتُمۡ مَّوۡعِدِیۡ ﴿۸۶﴾

তারপর মূসা ক্রোধ ও দুঃখভরে তার কওমের কাছে ফিরে গেল। সে বলল, ‘হে কওম, তোমাদের রব কি তোমাদের সাথে এক উত্তম ওয়াদা করেননি? তোমাদের কাছে কি সেই ওয়াদার সময় দীর্ঘ হয়ে গেছে? নাকি তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের রবের গযব পতিত হোক? তাই তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করলে’?
২০:৮৭ قَالُوۡا مَاۤ اَخۡلَفۡنَا مَوۡعِدَكَ بِمَلۡكِنَا وَ لٰكِنَّا حُمِّلۡنَاۤ اَوۡزَارًا مِّنۡ زِیۡنَۃِ الۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنٰهَا فَكَذٰلِكَ اَلۡقَی السَّامِرِیُّ ﴿ۙ۸۷﴾

তারা বলল, ‘আমরা তো স্বেচ্ছায় আপনার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করিনি, বরং কওমের অলংকারের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা তা (আগুনে) নিক্ষেপ করেছি, অনুরূপভাবে সামেরীও ফেলে দিয়েছে’।
২০:৮৮ فَاَخۡرَجَ لَهُمۡ عِجۡلًا جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ فَقَالُوۡا هٰذَاۤ اِلٰـهُكُمۡ وَ اِلٰهُ مُوۡسٰی ۬ فَنَسِیَ ﴿ؕ۸۸﴾

তারপর সে তাদের জন্য একটা গো বাছুরের প্রতিকৃতি বের করে আনল, যার ছিল আওয়াজ। তখন তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ; কিন্তু সে এ কথা ভুলে গেছে’।
২০:৮৯ اَفَلَا یَرَوۡنَ اَلَّا یَرۡجِعُ اِلَیۡهِمۡ قَوۡلًا ۬ۙ وَّ لَا یَمۡلِكُ لَهُمۡ ضَرًّا وَّ لَا نَفۡعًا ﴿۸۹﴾

তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার জবাব দিতে পারে না, আর তাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
২০:৯০ وَ لَقَدۡ قَالَ لَهُمۡ هٰرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلُ یٰقَوۡمِ اِنَّمَا فُتِنۡتُمۡ بِهٖ ۚ وَ اِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحۡمٰنُ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ وَ اَطِیۡعُوۡۤا اَمۡرِیۡ ﴿۹۰﴾

আর হারূন পূর্বেই তাদেরকে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, এটা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আর তোমাদের রব তো পরম করুণাময়। তাই তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল’।
২০:৯১ قَالُوۡا لَنۡ نَّبۡرَحَ عَلَیۡهِ عٰكِفِیۡنَ حَتّٰی یَرۡجِعَ اِلَیۡنَا مُوۡسٰی ﴿۹۱﴾
![]()
তারা বলল, ‘আমরা এর উপরই অবিচল থাকব যতক্ষণ না মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসে’।
২০:৯২قَالَ یٰهٰرُوۡنُ مَا مَنَعَكَ اِذۡ رَاَیۡتَهُمۡ ضَلُّوۡۤا ﴿ۙ۹۲﴾
![]()
মূসা বলল, ‘হে হারূন! তুমি যখন দেখলে যে, তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে তখন তোমাকে কিসে বিরত রাখল’
২০:৯৩ اَلَّا تَتَّبِعَنِ ؕ اَفَعَصَیۡتَ اَمۡرِیۡ ﴿۹۳﴾
![]()
যে তুমি আমার অনুসরণ করলে না? তাহলে তুমিও কি আমার আদেশ অমান্য করেছ’?
২০:৯৪ قَالَ یَبۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡیَتِیۡ وَ لَا بِرَاۡسِیۡ ۚ اِنِّیۡ خَشِیۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَیۡنَ بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ وَ لَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِیۡ ﴿۹۴﴾

সে বলল, ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়িও ধরো না, মাথার চুলও ধরো না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, তুমি বলবে, তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা রক্ষা করনি’।
২০:৯৫ قَالَ فَمَا خَطۡبُكَ یٰسَامِرِیُّ ﴿۹۵﴾
![]()
মূসা বলল, ‘হে সামেরী! তোমার কী অবস্থা’?
২০:৯৬ قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ یَبۡصُرُوۡا بِهٖ فَقَبَضۡتُ قَبۡضَۃً مِّنۡ اَثَرِ الرَّسُوۡلِ فَنَبَذۡتُهَا وَ كَذٰلِكَ سَوَّلَتۡ لِیۡ نَفۡسِیۡ ﴿۹۶﴾

সে বলল, ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা ওরা দেখেনি। তারপর আমি দূতের (জিবরীলের) পায়ের চিহ্ন থেকে এক মুষ্টি মাটি নিয়েছিলাম। অতঃপর তা নিক্ষেপ করেছিলাম। আর আমার মন আমার জন্য এরূপ করাটা শোভন করেছিল’।
২০:৯৭ قَالَ فَاذۡهَبۡ فَاِنَّ لَكَ فِی الۡحَیٰوۃِ اَنۡ تَقُوۡلَ لَا مِسَاسَ ۪ وَ اِنَّ لَكَ مَوۡعِدًا لَّنۡ تُخۡلَفَهٗ ۚ وَ انۡظُرۡ اِلٰۤی اِلٰـهِكَ الَّذِیۡ ظَلۡتَ عَلَیۡهِ عَاكِفًا ؕ لَنُحَرِّقَنَّهٗ ثُمَّ لَنَنۡسِفَنَّهٗ فِی الۡیَمِّ نَسۡفًا ﴿۹۷﴾

মূসা বলল, ‘যাও, তোমার শাস্তি হল, জীবদ্দশায় তুমি বলতে থাকবে, ‘আমি অস্পৃশ্য’। আর তোমার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় রইল যার কখনো ব্যতিক্রম হবে না। আর তুমি তোমার ইলাহের প্রতি চেয়ে দেখ, যার পূজায় তুমি রত ছিলে, আমরা তা অবশ্যই জ্বালিয়ে দেব। তারপর বিক্ষিপ্ত করে তা সাগরে নিক্ষেপ করবই’।
২০:৯৮ اِنَّمَاۤ اِلٰـهُكُمُ اللّٰهُ الَّذِیۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ؕ وَسِعَ كُلَّ شَیۡءٍ عِلۡمًا ﴿۹۸﴾

‘তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন ইলাহ নেই। সকল বিষয়েই তার জ্ঞান পরিব্যাপ্ত’।
২০:৯৯ كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَیۡكَ مِنۡ اَنۡۢبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَ ۚ وَ قَدۡ اٰتَیۡنٰكَ مِنۡ لَّدُنَّا ذِكۡرًا ﴿ۖۚ۹۹﴾

পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি।
২০:১০০ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡهُ فَاِنَّهٗ یَحۡمِلُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وِزۡرًا ﴿۱۰۰﴾ۙ
![]()
তা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।
২০:১০১ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهِ ؕ وَ سَآءَ لَهُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ حِمۡلًا ﴿۱۰۱﴾ۙ
![]()
সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং কিয়ামতের দিন এটা তাদের জন্য বোঝা হিসেবে কতই না মন্দ হবে!
২০:১০২ یَّوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ وَ نَحۡشُرُ الۡمُجۡرِمِیۡنَ یَوۡمَئِذٍ زُرۡقًا ﴿۱۰۲﴾ۚۖ
![]()
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, আর সেদিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করব।
২০:১০৩ یَّتَخَافَتُوۡنَ بَیۡنَهُمۡ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا عَشۡرًا ﴿۱۰۳﴾
![]()
সেদিন তারা চুপে চুপে নিজদের মধ্যে বলাবলি করবে, ‘তোমরা মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে’।
২০:১০৪ نَحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا یَقُوۡلُوۡنَ اِذۡ یَقُوۡلُ اَمۡثَلُهُمۡ طَرِیۡقَۃً اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا یَوۡمًا ﴿۱۰۴﴾

আমি ভালভাবেই জানি তারা কী বলবে, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল যে লোকটি সে বলবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে’!
২০:১০৫ وَ یَسۡـَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡجِبَالِ فَقُلۡ یَنۡسِفُهَا رَبِّیۡ نَسۡفًا ﴿۱۰۵﴾ۙ
![]()
আর তারা তোমাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন’।
২০:১০৬ فَیَذَرُهَا قَاعًا صَفۡصَفًا ﴿۱۰۶﴾ۙ
![]()
‘তারপর তিনি তাকে মসৃণ সমতলভূমি করে দিবেন’।
২০:১০৭ لَّا تَرٰی فِیۡهَا عِوَجًا وَّ لَاۤ اَمۡتًا ﴿۱۰۷﴾ؕ
![]()
‘তাতে তুমি কোন বক্রতা ও উচ্চতা দেখবে না’।
২০:১০৮ یَوۡمَئِذٍ یَّتَّبِعُوۡنَ الدَّاعِیَ لَا عِوَجَ لَهٗ ۚ وَ خَشَعَتِ الۡاَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ اِلَّا هَمۡسًا ﴿۱۰۸﴾

সেদিন তারা আহবানকারীর (ফেরেশতার) অনুসরণ করবে। এর কোন এদিক সেদিক হবে না এবং পরম করুণাময়ের সামনে সকল আওয়াজ নিচু হয়ে যাবে। তাই মৃদু আওয়াজ ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না।
২০:১০৯ یَوۡمَئِذٍ لَّا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَۃُ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَهُ الرَّحۡمٰنُ وَ رَضِیَ لَهٗ قَوۡلًا ﴿۱۰۹﴾

সেদিন পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দিবেন আর যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন তার সুপারিশ ছাড়া কারো সুপারিশ কোন কাজে আসবে না।
২০:১১০ یَعۡلَمُ مَا بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ مَا خَلۡفَهُمۡ وَ لَا یُحِیۡطُوۡنَ بِهٖ عِلۡمًا ﴿۱۱۰﴾
![]()
তিনি তাদের আগের ও পরের সব কিছুই জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না।
২০:১১১وَ عَنَتِ الۡوُجُوۡهُ لِلۡحَیِّ الۡقَیُّوۡمِ ؕ وَ قَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمًا ﴿۱۱۱﴾

আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে যে যুলম বহন করবে।
২০:১১২ وَ مَنۡ یَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَ هُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلۡمًا وَّ لَا هَضۡمًا ﴿۱۱۲﴾

এবং যে মুমিন অবস্থায় ভাল কাজ করবে সে কোন যুলম বা ক্ষতির আশংকা করবে না।
২০:১১৩ وَ كَذٰلِكَ اَنۡزَلۡنٰهُ قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا وَّ صَرَّفۡنَا فِیۡهِ مِنَ الۡوَعِیۡدِ لَعَلَّهُمۡ یَتَّقُوۡنَ اَوۡ یُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرًا ﴿۱۱۳﴾

আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং তাতে বিভিন্ন সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা মুত্তাকী হতে পারে অথবা তা হয় তাদের জন্য উপদেশ।
২০:১১৪ فَتَعٰلَی اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَقُّ ۚ وَ لَا تَعۡجَلۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یُّقۡضٰۤی اِلَیۡكَ وَحۡیُهٗ ۫ وَ قُلۡ رَّبِّ زِدۡنِیۡ عِلۡمًا ﴿۱۱۴﴾

সুতরাং আল্লাহ মহান যিনি সত্যিকার অধিপতি; তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং তুমি বল, ‘হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।’
২০:১১৫ وَ لَقَدۡ عَهِدۡنَاۤ اِلٰۤی اٰدَمَ مِنۡ قَبۡلُ فَنَسِیَ وَ لَمۡ نَجِدۡ لَهٗ عَزۡمًا ﴿۱۱۵﴾

আর আমি ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম; কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে সংকল্পে দৃঢ়তা পাইনি।
২০:১১৬ وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِكَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی ﴿۱۱۶﴾

আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর,’ তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অমান্য করল।
২০:১১৭ فَقُلۡنَا یٰۤـاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَ لِزَوۡجِكَ فَلَا یُخۡرِجَنَّكُمَا مِنَ الۡجَنَّۃِ فَتَشۡقٰی ﴿۱۱۷﴾

অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আদম, নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে কিছুতেই বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা দুর্ভোগ পোহাবে’।
২০:১১৮ اِنَّ لَكَ اَلَّا تَجُوۡعَ فِیۡهَا وَ لَا تَعۡرٰی ﴿۱۱۸﴾ۙ
![]()
‘নিশ্চয় তোমার জন্য এ ব্যবস্থা যে, তুমি সেখানে ক্ষুধার্তও হবে না এবং বস্ত্রহীনও হবে না’।
২০:১১৯ وَ اَنَّكَ لَا تَظۡمَؤُا فِیۡهَا وَ لَا تَضۡحٰی ﴿۱۱۹﴾
![]()
‘আর সেখানে তুমি পিপাসার্তও হবে না এবং রৌদ্রদগ্ধও হবে না’।
২০:১২০ فَوَسۡوَسَ اِلَیۡهِ الشَّیۡطٰنُ قَالَ یٰۤـاٰدَمُ هَلۡ اَدُلُّكَ عَلٰی شَجَرَۃِ الۡخُلۡدِ وَ مُلۡكٍ لَّا یَبۡلٰی ﴿۱۲۰﴾

অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, বলল, ‘হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্ত জীবনপ্রদ গাছ এবং অক্ষয় রাজত্ব সম্পর্কে?’
২০:১২১ فَاَكَلَا مِنۡهَا فَبَدَتۡ لَهُمَا سَوۡاٰتُهُمَا وَ طَفِقَا یَخۡصِفٰنِ عَلَیۡهِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّۃِ ۫ وَ عَصٰۤی اٰدَمُ رَبَّهٗ فَغَوٰی ﴿۱۲۱﴾۪ۖ

অতঃপর তারা উভয়েই সে গাছ থেকে খেল। তখন তাদের উভয়ের সতর তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজদেরকে আবৃত করতে লাগল এবং আদম তার রবের হুকুম অমান্য করল; ফলে সে বিভ্রান্ত হল।
২০:১২২ ثُمَّ اجۡتَبٰهُ رَبُّهٗ فَتَابَ عَلَیۡهِ وَ هَدٰی ﴿۱۲۲﴾
![]()
এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবূল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন।
২০:১২৩ قَالَ اهۡبِطَا مِنۡهَا جَمِیۡعًۢا بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ فَاِمَّا یَاۡتِیَنَّكُمۡ مِّنِّیۡ هُدًی ۬ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَایَ فَلَا یَضِلُّ وَ لَا یَشۡقٰی ﴿۱۲۳﴾

তিনি বললেন, ‘তোমরা উভয়েই জান্নাত হতে এক সাথে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না’।
২০:১২৪ وَ مَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِیۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِیۡشَۃً ضَنۡكًا وَّ نَحۡشُرُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ اَعۡمٰی ﴿۱۲۴﴾

‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।
২০:১২৫ قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِیۡۤ اَعۡمٰی وَ قَدۡ كُنۡتُ بَصِیۡرًا ﴿۱۲۵﴾
![]()
সে বলবে, ‘হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন’?
২০:১২৬ قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتۡكَ اٰیٰتُنَا فَنَسِیۡتَهَا ۚ وَكَذٰلِكَ الۡیَوۡمَ تُنۡسٰی ﴿۱۲۶﴾

তিনি বলবেন, ‘এমনিভাবেই তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হল’।
২০:১২৭ وَ كَذٰلِكَ نَجۡزِیۡ مَنۡ اَسۡرَفَ وَ لَمۡ یُؤۡمِنۡۢ بِاٰیٰتِ رَبِّهٖ ؕ وَ لَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَشَدُّ وَ اَبۡقٰی ﴿۱۲۷﴾

আর এভাবেই আমি প্রতিফল দান করি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যই কঠোরতর ও অধিকতর স্থায়ী।
২০:১২৮ اَفَلَمۡ یَهۡدِ لَهُمۡ كَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ یَمۡشُوۡنَ فِیۡ مَسٰكِنِهِمۡ ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِكَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی ﴿۱۲۸﴾

এটি কি তাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না যে, আমি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে? নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন।
২০:১২৯ وَ لَوۡ لَا كَلِمَۃٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَّ اَجَلٌ مُّسَمًّی ﴿۱۲۹﴾ؕ

আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত ও একটি কাল নির্ধারিত হয়ে না থাকত, তবে আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হত।
২০:১৩০ فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَ سَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَ قَبۡلَ غُرُوۡبِهَا ۚ وَ مِنۡ اٰنَآیِٔ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡ وَ اَطۡرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرۡضٰی ﴿۱۳۰﴾

সুতরাং এরা যা বলে তার উপর ধৈর্য ধারণ কর এবং তাসবীহ পাঠ কর তোমার রবের প্রশংসা বর্ণনার মাধ্যমে, সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং তাসবীহ পাঠ কর রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তসমূহে, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।
২০:১৩১ وَ لَا تَمُدَّنَّ عَیۡنَیۡكَ اِلٰی مَا مَتَّعۡنَا بِهٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡهُمۡ زَهۡرَۃَ الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۬ۙ لِنَفۡتِنَهُمۡ فِیۡهِ ؕ وَ رِزۡقُ رَبِّكَ خَیۡرٌ وَّ اَبۡقٰی ﴿۱۳۱﴾

আর তুমি কখনো প্রসারিত করো না তোমার দু’চোখ সে সবের প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে দুনিয়ার জীবনের জাঁক-জমকস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের প্রদত্ত রিয্ক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী।
২০:১৩২ وَ اۡمُرۡ اَهۡلَكَ بِالصَّلٰوۃِ وَ اصۡطَبِرۡ عَلَیۡهَا ؕ لَا نَسۡـَٔلُكَ رِزۡقًا ؕ نَحۡنُ نَرۡزُقُكَ ؕ وَ الۡعَاقِبَۃُ لِلتَّقۡوٰی ﴿۱۳۲﴾

আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিয্ক চাই না। আমিই তোমাকে রিয্ক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।
২০:১৩৩ وَ قَالُوۡا لَوۡ لَا یَاۡتِیۡنَا بِاٰیَۃٍ مِّنۡ رَّبِّهٖ ؕ اَوَ لَمۡ تَاۡتِهِمۡ بَیِّنَۃُ مَا فِی الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰی ﴿۱۳۳﴾

আর তারা বলে, ‘সে তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন’? পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে তা কি তাদের কাছে আসেনি?
২০:১৩৪ وَ لَوۡ اَنَّـاۤ اَهۡلَكۡنٰهُمۡ بِعَذَابٍ مِّنۡ قَبۡلِهٖ لَقَالُوۡا رَبَّنَا لَوۡ لَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَیۡنَا رَسُوۡلًا فَنَتَّبِعَ اٰیٰتِكَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّذِلَّ وَ نَخۡزٰی ﴿۱۳۴﴾

আর যদি আমি তাদেরকে ইতঃপূর্বে কোন আযাব দ্বারা ধ্বংস করতাম তবে অবশ্যই, তারা বলত, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের কাছে কোন রাসূল পাঠালেন না কেন? তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার পূর্বে আপনার নিদর্শনাবলী অনুসরণ করতাম’।
২০:১৩৫ قُلۡ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوۡا ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَصۡحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِیِّ وَ مَنِ اهۡتَدٰی ﴿۱۳۵﴾

বল, ‘প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করছে, অতএব তোমরাও প্রতীক্ষায় থাক। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের উপর রয়েছে এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত’।